বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

দগ্ধ ছেলে-মেয়ের পর মারা গেলেন বাবাও, মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রকাশিতঃ শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:৫১ অপরাহ্ন

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজে’লার মুক্তারপুরে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে গ্যাসের লিকেজ থেকে বি’স্ফোরণের ঘটনায় দ’গ্ধ ছে’লে-মেয়ের পর বাবাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। দ’গ্ধ মা শান্তা বেগম (৩৮) আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার (৩৮) শরীরের ৪৮ শতাংশ পুড়ে গেছে।

 

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবা মো. কাউসার খান (৪২) মা’রা যান। এ নিয়ে মৃ’ত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল তিনজন। তার শরীরের ৫৪ শতাংশ দ’গ্ধ হয়েছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) কাউসার খানের ছে’লে ইয়াসিন খান (৫) ও মে’য়ে নহর খান মা’রা যান। এ ঘটনায় আ’হত কাউসার খানের স্ত্রী’ শান্তা বেগমের অবস্থাও আশ’ঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

নি’হত কাউসার খানের ভগ্নিপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাউসার মা’রা গেছে। শান্তার অবস্থাও ভালো না। তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার ভোরে অ’গ্নিদ’গ্ধ অবস্থায় চারজনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। আম’রা খবর পেয়ে দ্রুত আসি। দুপুরের পর ইয়াসিন ও নহরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে আইসিইউতে রাখা হয়।

 

বিকেলে অবস্থা আরও খা’রাপ হলে দুজনকেই লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে নহর ও সাড়ে ৯টার দিকে ইয়াসিন মা’রা যায়। কাউসার ও শান্তার অবস্থাও ভালো ছিল না। তারপরও বারবার দুজনেই সন্তানদের কথা জিজ্ঞেস করছিল। সন্তানদের মা’রা যাওয়া ও দাফনের বিষয়টি তাদের জানাতে পারিনি।

 

নি’হত কাউসার খান আবুল খায়ের গ্রুপে রিভা’র ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কি’শোরগঞ্জ সদর উপজে’লায়। চাকরির সুবাদে তিনি পরিবার নিয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজে’লার পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকার একটি তিনতলা বাড়ির দুই তলায় ভাড়া থাকতেন।

 

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাউসার খানদের বাড়িতে বিকট শব্দ হয়। শব্দে আশপাশের মানুষ ভ’য়ে আঁতকে ওঠেন। ঘরের জানালা ভেঙে যায়। কাউসারদের ঘরের সবাই চি’ৎকার করছিলেন। পরে লোকজন বের হয়ে দেখতে পান, কাউসারদের বাড়িতে আ’গুন জ্বলছে। তখন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তবে ফায়ারের লোকজন আসার আগেই প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে পানি দিয়ে আ’গুন নেভান।

 

কাউসারের প্রতিবেশী শাহ সিমেন্টের মেশিন অ’পারেটর আবদুস সামাদ বলেন, বি’স্ফোরণের শব্দ শুনে কাউসার খানের বাসায় গিয়ে দেখি, তাদের ঘরের ভেতর আ’গুন জ্বলছে। আম’রা দরজায় ধাক্কা দেই। কাউসার খান নিজেই দরজা খোলেন। আম’রা চারজনকে দ’গ্ধ অবস্থায় বের করি। দ্রুত তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দিই।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: