রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১১:০১ অপরাহ্ন

অসুস্থ বাচ্চার চিকিৎসার টাকা জোগাড়ে কক্সবাজারে এসেছিলেন সেই নারী

প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:৪২ পূর্বাহ্ন

‘কোথাও কোনো উপায় না পেয়ে অ’সুস্থ বাচ্চার চিকিৎসার টাকা জো’গাড় করতে স্বামীসহ কক্সবাজার এসেছি। এখানে গত তিন মাস ধরে অবস্থান করছি। আমার আট মাস বয়সী বাচ্চার হা’র্টে ছি’দ্র। তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। টাকা জো’গাড়ে যখন যেখানে ডাক পেয়েছি গিয়েছি। তার চিকিৎসার জন্যই এ কাজ বা’ধ্য হয়ে করছি।

 

এ সময়ে স’ন্ত্রাসী’দের খ’প্পরে পড়ি। বা’ধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁ’দাও দিয়েছি। পরে আবার চাঁদা চাইলে স্বামীর সঙ্গে স’ন্ত্রা’সীদের বা’গবিত’ণ্ডা হয়। এর সূত্র ধরে তুলে নিয়ে ধ’র্ষ’ণ করে তারা।’ কক্সবাজারে আসে গ’ণধর্ষ’ণের শি’কার সেই নারী ‘পর্যটক’ আদালতে দেয়া জবানব’ন্দিতে এমটাই দা’বী করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আ’দালতে জবানব’ন্দিতে এসব বলেন ওই নারী।

 

আ’দালতে দেয়া ওই নারীর জবানব’ন্দির বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের এসপি মো: জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কারো অ’সম্মতিতে মিলন করা মানে তাকে ধ’র্ষ’ণ করা হয়েছে। ওই নারী যদি তার সন্তান বাঁচানোর জন্য অ’সামাজিক কার্যকলা’পের সাথে জ’ড়িত হন এটি তার ব্যক্তিগত এবং পারিপা’র্শ্বিক বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তিনি দা’বি করেছেন তাকে ‘ধ’র্ষ’ণ করা হয়েছে। এখন আমরা সব বিষয় মাথায় রেখে মাম’লাটি তদন্ত করছি। একই সাথে স’ন্ত্রা’সীদের গ্রে’ফতারের জন্য অভি’যান অব্যাহত রাখা হয়েছে।’

 

আশিক তা’লিকাভু’ক্ত স’ন্ত্রা’সী, ১৬ মাম’লার আ’সামি, মা’দকসেবক ও মা’দক ব্যবসায়ী একজন মানুষের (আশিকের) সাথে বাইরের আরেকজন নারীর পরিচয় থাকা সন্দে’হজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে তিনি স্বামী-সন্তানকে ‘জি’ম্মি ও হ’ত্যার ভ’য় দেখিয়ে তাকে দুবার ধ’র্ষ’ণ হয়েছে বলে অভি’যোগ করেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ধ’র্ষণে’র শি’কার ওই নারী পতি’তাবৃ’ত্তির অভিযোগে কক্সবাজার সদর মডেল থানার হাতে আট’ক হয়েছিলেন কয়েকমাস আগে। কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের লাইট হাউজ এলাকায় আবা’সিক কটেজ থেকে অসামাজিক কার্যকলা’পে জ’ড়িত থাকার অভিযো’গে ওই নারীসহ ৫২ জনকে আট’ক করা হয়েছিল।

 

পুলিশের দা’বি, প্রাথমিক তদ’ন্তে ওই নারীর সাথে আসামি আশিকুল ইসলাম আশিকের পূর্ব-পরিচয় ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে ওই নারী আদালতে ২২ ধারায় এ সংক্রা’ন্ত জবানব’ন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ধ’র্ষ’ণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় চারজনের বি’রু’দ্ধে মা’মলা করেন ওই নারীর স্বামী। মা’মলার আসা’মিরা হলেন; আশিকুল ইসলাম এবং তার তিন সহযোগী আবদুল জব্বার ওরফে ইস্রাফিল হুদা ওরফে জয়, মেহেদী হাসান ওরফে বাবু ও রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।

 

র‌্যাবের দা’বি, রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে আসা এক নারী হোটেলে তিন যুবকের হাতে ধ’র্ষ’ণের শি’কার হন। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকত থেকে স্বামী-সন্তানকে জি’ম্মি করে হ’ত্যা’র ভ’য় দেখিয়ে ওই নারীকে অপহর’ণের পর হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধ’র্ষ’ণ করা হয়। রাত ২টার দিকে র‌্যাবের একটি দল হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেল থেকে ওই নারীকে উ’দ্ধার করে।

 

ঘটনার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীর স্বামী মামুন মিয়া বা’দী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় সাতজনের বি’রুদ্ধে একটি ধ’র্ষ’ণ মামলা রুজু করেন। মাম’লার আসা’মিরা হলেন- কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার আবদুল করিমের ছেলে আরিফুল ইসলাম আশিক, মোহাম্মদ শফির ছেলে আব্দুল জব্বার জয়, বাবু ও রিয়াজউদ্দিন ছোটনসহ অ’জ্ঞা’তনামা আরো তিনজন। এর মধ্যে হোটেল ম্যানেজার রিয়াজউদ্দিন ছোটন গ্রে’ফতারের পর এখন কা’রাগারে রয়েছেন।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: