রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

হাফসার বিয়ের দিনক্ষণ ছিল পাকাপাকি, বাড়ি ফেরা হয়নি মা-বাবার

প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:৫৯ অপরাহ্ন

ধুমধা’ম করে শুক্রবার বিয়ের দিনক্ষণ পাকাপাকি হয়েছিল হাফসার (১৮)। বিয়ের কেনাকা’টা করতে এক বছর বয়সী ভাই নাসিরুল্লাহকে স’ঙ্গে নিয়ে ঢাকায় বাবার কাছে যান হাফসার মা পাখি বেগম (৩৫)। হাফসার বাবা আবদুল হাকিম (৪৫) ঢাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বড় মেয়ে হাফসার বিয়ের জন্য ব্যাংকে রাখা কিছু টাকা আর শাড়ি গয়না কিনে বাড়িতে ফিরবেন এমনই পরিক’ল্পনা ছিল তাদের।

 

কেনাকাটা শেষ করে শিশু নাসিরুল্লাহকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বরগুনাগামী এমভি অভি’যান-১০ লঞ্চে উঠেন আবদুল হাকিম ও স্ত্রী পাখি বেগম। এরপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বরগুনার সার্কিট হাউসের সামনে নি’খোঁজ মা-বাবা ও ভাইয়ের ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে কা’ন্নাজ’ড়িত ক’ণ্ঠে এমনটাই জানাচ্ছিল হাফসা, সুমাইয়া ও ফজলুল করিম। অপরদিকে, সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে ভ’য়াব’হ অ’গ্নিকা’ণ্ডে বাবা-মা হারানো এই তিন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শ’ঙ্কার কথা জানান স্বজনরা।

 

নি’খোঁজ হাকিম ও পাখি বেগম দম্প’তির স্বজনরা জানান, আগামী শুক্রবার হাফসার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়। এরপর তারা ঢাকায় যায় কেনাকা’টা করতে। গভীর রাতে লঞ্চে ভ’য়াবহ অ’গ্নিকা’ণ্ডের ঘটনায় তাদের মৃ’ত্যু হয়েছে বলে ধারণা বাড়িতে থাকা তিন সন্তান ও স্বজনদের। হাফসার নানি ফরিদা বেগম জানান, অনেক খোঁজাখুজি করেও আবদুল হাকিম, পাখি বেগম ও তাদের শিশুপুত্র নাসিরুল্লাহর কোনো স’ন্ধান মেলেনি।

 

তবে আ’গুনে পু’ড়ে যাওয়া লঞ্চটিতে স’ন্ধান চালিয়ে হাফসার জন্য কেনা বিয়ের শাড়ি-কাপড়, গয়না, পুড়ে যাওয়া লাগেজ ও শিশু নাসিরুল্লাহর প্যান্ট শা’র্ট পাওয়া গেছে। হাফসার মামা নজরুল বলেন, বাবা-মায়ের মৃ’ত্যুতে অ’নিশ্চিৎ হয়ে পড়েছে বড় মেয়ে হাফসা, মেজ মেয়ে সুমাইয়া এবং সেজ ছেলে ফজলুল হকের ভবি’ষ্যৎ। সবকিছুর পরেও লা’শগুলো খুঁজে পেলে মনটারে একটু সান্ত্বনা দিতে পারতাম। অন্তত মা-বাবার কবরটা তো দেখতে পারত এতিম তিন ভাই-বোন।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: