মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

বিজনেস ক্লাসে মাসে ৮ বার কক্সবাজার গিয়ে ইয়াবা ব্যবসা সামলাতেন তারা

প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৪১ অপরাহ্ন

চলাফেরায় আভিজাত্য, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাস ফ্লাইটে প্রতিমাসে সাত থেকে আটবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা, বিমানবন্দরে র‌্যাম্প কার সুবিধা; কিন্তু এসব চাকচিক্যের আড়ালে তাদের মূল পেশা মা’দক ব্যবসা। রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) এই মা’দক চক্রের চার সদস্যকে গ্রে’ফতার করেছে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মক’র্তারা।

 

অ’ভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তারা বলছেন, চক্রের এই সদস্যরা কখনও ইয়া’বা বহন করতো না। কিন্তু ইয়া’বা পাচার এবং সরবরাহের সাথে পুরোপুরিভাবে সম্পৃক্ত। ঢাকা থেকে প্লেনে কক্সবাজার গিয়ে সেখানে ইয়া’বা যাচাই-বাছাই করতো তারা। সেখানকার ব্যবসায়ী সিন্ডিকে’টের সাথে রয়েছে সখ্যতা।

 

গ্রে’ফতারকৃতরা হলেন, মেহেরুন্নেসা মিম (২৪), জোহুরা বেগম (৩০), জালাল মৃধা (৩৫) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)।‌ এসময় তাদের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়া’বা জ’ব্দ করা হয়, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, গ্রে’ফতারকৃত এই দুই তরুণী তাদের গ্ল্যামা’র ব্যবহার করে মা’দক ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন অ’প’রাধমূলক কর্মকা’ণ্ডের তৎপড়তা চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন বয়সের পুরুষদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ স’ম্পর্ক স্থাপন করে পরবর্তী সময়ে ব্ল্যাকমেইলও করতো তারা।

 

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রে’ফতারকৃতরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। ইয়া’বা ব্যবসার সাথে জড়িত রাজধানীতে রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, মূলত যাদের ছত্রচ্ছায়ায় কাজ করতো গ্রে’ফতারকৃতরা। বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বলছেন ত’দন্ত সংশ্লিষ্টরা।

 

মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানিয়েছে, কিছুদিন আগে অন্য একটি অ’ভিযানে গ্রে’ফতার কয়েকজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ইয়া’বা চক্রের সদস্যদের গ্রে’ফতার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা টেকনাফ থেকে ইয়া’বা সংগ্রহ করে তারা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতো; প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে এমনই সব তথ্য পায় তারা। তাদের মেইন এজেন্ট টেকনাফ এবং কক্সবাজার এলাকার। ওখান থেকেই তারা ইয়া’বা সংগ্রহ করে নিয়ে আসতো। এতদিন তারা ধ’রাছোঁয়ার বাইরেই ছিল।

 

কক্সবাজার থেকে নিজেরাই ইয়া’বা সংগ্রহ করে তাদের সিন্ডিকে’টের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবহনে রাজধানীতে নিয়ে আসতো তারা‌‌। ঢাকায় এনে তাদের বাসায় ইয়া’বা মজুত করা হতো। পরবর্তী সময়ে ডিলার কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো তাদের এই সিন্ডিকে’টের সদস্যদের মাধ্যমে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মক’র্তারা বলছেন, সম্প্রতি ইয়া’বা, আইস— এ ধরনের মা’দক চো’রাচালানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে একটি চক্র বিশেষ করে নারীদের কে ইয়া’বা পাচারে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন তাদের টার্গেট করতে না পারে মূলত সে কারণেই নারীদের ব্যবহার করে আসছে ইয়া’বা ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায় পরিবারের সদস্যরা এমনকি জামাই-শাশুড়ি, মা-ছে’লে, স্বামী-স্ত্রী’ও জড়িয়ে পড়ছেন ইয়া’বা ব্যবসায়।

 

মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি সময় দেখা যাচ্ছে, মা’দক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নারীদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বেশি উঠে আসছে। আমাদের সাম্প্রতিক সময়ে অ’ভিযানে ইয়া’বা আইস ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় নারীদের গ্রে’ফতার করা হয়েছে। নারীদের কাজে লাগিয়ে অ’প’রাধ চক্র গুলো সাম্প্রতিক সময়ে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে।

 

তবে আম’রাও আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অ’ভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া অনেককেই গ্রে’ফতার করেছি। তার মধ্যে নারীও যেমন রয়েছে তেমনি পুরুষ রয়েছে। সেই সঙ্গে কি’শোর বয়সের ছে’লে-মে’য়েও রয়েছে গ্রে’ফতারের তালিকায়। তিনি বলেন, গ্রে’ফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকজনের নাম আম’রা পেয়েছি। তারা আমাদের মনিটরিংয়ের রয়েছে। তাদের বিভিন্ন বিষয় স’ম্পর্কে আম’রা খতিয়ে দেখছি।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: