সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজির শব্দে কাঁপছিল উমায়ের, পরদিনই মৃত্যু

প্রকাশিতঃ সোমবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২২, ৪:০৬ অপরাহ্ন

ইংরেজি নবববর্ষণের রাতে (থার্টি ফার্স্ট নাইট) আত’শবা’জির শব্দে ভ’য় পেয়ে অ’সুস্থ হয়ে তানজিম উমায়ের নামে এক শিশুর মৃ’ত্যু হয়েছে বলে অভি’যোগ উঠেছে। জন্মথেকেই হৃদরো’গে ভু’গতে থাকা শিশুটি মাত্র চার মাস ১৯ দিন বয়সী ছিল। উমায়েরের পরিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসি’ন্দা। গত ৩১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন শনিবার (১ জানুয়ারি) শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যায় সে। শিশুটির বাবা ইউসুফ রায়হান ‘মোহাম্মদী টেলিকম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জা’গো নি’উজকে বলেন, ‘আমার ছেলে উমায়েরের জন্মের পর থেকেই হৃদরো’গের সম’স্যা ছিল। তার প্রায়ই শ্বা’সক’ষ্ট হতো এবং শ’রীর ঘেমে যেত।’

 

‘এই ঘটনার আগে উমায়ের ১২ দিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এরপর হৃদরো’গের সম’স্যা থাকায় তাকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুটা সুস্থবো’ধ করায় তাকে চারদিন পর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় নিয়ে আসি। এক সপ্তাহ পর আবারও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য বলা ছিল। সে সুবাদে আমাদের বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসককে দেখানোর কথা থাকলেও চিকিৎসক ব্যস্ত থাকায় শনিবার (১ জানুয়ারি) সকালে যাওয়ার কথা হয়। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে তার অপারে’শন করার কথা ছিল।’

 

ইউসুফ রায়হান বলেন, ‘আমার ছেলেটা সারাদিন হাসিখুশিই ছিল। কিন্তু সেদিন (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১২টা পর থেকেই টা’না বা’জির শব্দে আমার ছেলেটা বারবার কেঁ’পে উঠছিল। বাড়ির কাছে যেগুলো ফুটছিল সেগুলোর কারণে বিক’ট শব্দ হচ্ছিল। এরপর তাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। সাধারণত রাতে তার ঘুম কম আসতো। সেদিন সারারাত সে ছ’টফ’ট করছিল। শ্বা’সক’ষ্ট হলে তাকে নেবুলাইজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। বলতে গেলে সে রাতে তাকে আ’ধঘণ্টা পরপরই নেবুলাইজ করতে হচ্ছিল।’

 

পরদিন সকালে উমায়েরকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বলেন, ‘শ্বা’সক’ষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৪টায় তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে নল দিয়ে খাবার দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু প্রথমবার দেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের খাবার তার এক নাক দিয়ে গেলে অন্য নাক দিয়ে বের হয়ে আসছিল। এসময় তার শ্বা’স-প্র’শ্বাস ব’ন্ধ হয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে যান। একপর্যায়ে চিকিৎসকরা জানান, উমায়েরের অবস্থা ভালো নয়। এর কিছুক্ষণ পর সে মা’রা যায়।’

 

তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার মতো অনেক শিশুরই এ ধরনের সম’স্যা থাকে। যাদের হৃ’দরো’গের সমস্যা থাকে, উচ্চশব্দে তাদের সম’স্যা হয়। আমি চাই না এভাবে আর কারও সন্তান বা কেউ মা’রা যাক। এ বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখনো কিছু ভাবিনি। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা নিলে যদি অন্য কোনো সন্তান বাঁচতে পারে, তাহলে আমি এর জন্য ব্যবস্থা নিতে রাজি আছি।’


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: