রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১০:১১ অপরাহ্ন

আমি তোর মা, আমার বুকে আয়: ৮ মাস পর বুকের ধন ফিরে পেয়ে বললেন মা

প্রকাশিতঃ শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৬:০৬ অপরাহ্ন

আট মাস পর মায়ের কোলে ফিরে এলো চার বছর বয়সী ইমরান। অ’পহৃ’ত শিশু ইমরানকে উ’দ্ধার করছে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনার সঙ্গে জ’ড়িত থাকার অপরা’ধে গতকাল কুমিল্লা থেকে ইসমাইল হোসেন ওরফে জীবন ওরফে আকাশকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি আশরাফ হোসেন এসব তথ্য জানান।

ডিবি কার্যালয়ে রাশিদা বেগম ছেলেকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। শিশু ইমরান তার নামটা বলতে পারে না। অপহ’রণকা’রীদের দেওয়া নাম অনুযায়ী নিজের নাম বলে মাহফুজ। তার মা, দাদী ও পরিবারের সদস্য কাউকে চিনতে পারে না। মা রাশিদা বেগম হা’উমাউ করে কাঁদছেন। বলছেন, আমি তোর মা। আমার বুকে আয়। মা ইমরানকে কোলে জ’ড়িয়ে ধরে চু’মু দিতে লাগলেন। অবশেষে না’ড়ির টান বেরিয়ে এলো। শিশুটি এক সময় এক এক নাম বলে।

ডিবি বলছে, ইসমাইল মূলত একজন প্র’তারক। তিনি একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। অবশেষে ডিবির জা’লে তিনি আ’টকা পড়েন। নিজের ছেলে পরিচয়ে শিশু ইমরানকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিল আসামি ইসমাইল। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৮ মাস পর ফিরে আসায় শিশুটি তার সঠিক নামটা বলতে পারেনি এবং তার মা, দাদি ও পরিবারের সদস্য কাউকে চিনতে পারেনি। মা সন্তানকে চেনে কিন্তু সন্তান মাকে চিনতে পারেনি। অবশেষে নাড়ির টানে যখন শিশুটির মা তাকে জড়িয়ে ধরে কা’ন্না করলো তখন শিশুটিও তার মাকে কাছে পেয়ে আ’বেগ আ’প্লুত হয়ে কান্না শুরু করে।

ডিবি কর্মকর্তা আশরাফ বলেন, ডিবি পুলিশের ছায়া তদ’ন্তের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘ ৮ মাস পর বিক্রি হওয়া শিশু ইমরানকে উ’দ্ধার করা হয়। শিশুটির নানী হামিদা খাতুন রাজধানীর দক্ষিণখানের জামতলা এলাকায় মেয়ে রাশিদা খাতুনকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। রাশিদা বাসা বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। ৬ বছর আগে রাশিদার সঙ্গে মাজারুল ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর তার পুত্র সন্তান ইমরানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের তিনমাস পর তার স্বামী যোগাযোগ বি’চ্ছি’ন্ন করে দেয়।

 

পার্শ্ববর্তী বাসার ভাড়াটিয়া আসামি ইসমাইল রাশিদাকে বিভিন্নভাবে উ’ত্য’ক্ত করে এবং অ’নৈতিক প্রস্তাব দেয়। অ’নৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার সন্তান ইমরানকে আট মাসে আগে অপহ’রণ করে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেয়। ডিসি আরো বলেন, আসামি ইসমাইল অ’সৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় চকলেট ও চিপস কিনে দিয়ে শিশুটির সঙ্গে ঘ’নি’ষ্ট হওয়ার চেষ্টা করত। এক পর্যায়ে শিশুর মা বাড়িতে না থাকায় কৌশলে গত বছরের ১৫ জুন শিশু ইমরানকে বাসা থেকে অ’পহ’রণ করে অ’জ্ঞা’ত স্থানে নিয়ে যায় ইসমাইল।

 

এরপর অনেক খোঁজ করে ইমরানের সন্ধান না পাওয়ায় ভি’কটি’মের মা রাশিদা পাগল প্রায় হয়ে যায়। ইমরানকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে। এরপর তিনি আসামি ইসমাইলকে সন্দে’হ করেন এবং তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। রাশিদা আসামির সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে আসামি ইসমাইল জানায় তার ছেলেকে কাগজপত্র করে বিক্রি করে দিয়েছে। তার ছেলেকে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আাসা’মির সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে অ’নৈতিক প্র’স্তাব দিত এবং অ’কথ্য ভাষায় গা’লিগা’লাজ করতো।

 

রাশিদা ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও তার অপহৃ’ত ছেলেকে উ’দ্ধার করতে পারেনি। রাশিদা ও তার পরিবারের লেখাপড়া না থাকায় এবং কারো কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেকে উ’দ্ধারের বিষয়ে কোনো আ’ইনগত পদক্ষে’প নিতে পারেনি। একজন সন্তান হা’রানো মায়ের আহাজারিতে যখন আকাশ বাতাস ভারী হয় তখন বিষয়টি ডিবির দৃ’ষ্টি গোচরে আসে।

 

আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি এবং অ’পহ’রণকারী ইসমাইলকে কুমিল্লা থেকে গ্রে’ফতার করি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভি’ত্তিতে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার যাত্রাবাড়ী গ্রাম থেকে শিশু ইমরানকে উ’দ্ধার করা হয়। নিজের ছেলে পরিচয় দিয়ে শিশু ইমরানকে কাগজপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। ইসমাইলের বি’রু’দ্ধে ডিএমপির দক্ষিণখান থানায় মা’মলা করা হয়েছে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: