মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

নিজে বিয়ে করলেও প্রেমিক অন্যকে বিয়ে করায় ভয়ংকর কাণ্ড সাবেক প্রেমিকার!

প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৬:২১ অপরাহ্ন

ভালোবেসেই শ্রাবন্তী আক্তারকে (২০) গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন মো. মাঈনুল মীর (২৩)। দুইজনের পরিবার রাজি না থাকায় গোপনে ‘কোর্ট ম্যা’রেজ’ করেন তারা। মীরের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামে। আর শ্রাবন্তীর বাড়ি নরসিংদী সদর থানার কামাড়গাও গ্রামে। তবে কে জানত, বিয়ের মাত্র ৬ দিনের মাথায় পুরোনো প্রেমি’কার হাতেই মীরের জী’বন যাবে।

এদিকে অন্য মেয়েকে বিয়ের কথা জানতে পেরে কৌশলে মীরকে ডেকে নিয়ে চেত’নানা’শক ইন’জে’কশন পু’শ করে গ’লায় ছুরি’কাঘা’ত করে হ’ত্যা করেন তার পুরোনো প্রেমিকা ইসরাত জাহান মীম (২০)। এইসএসসি পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহান মিম, পড়াশোনার পাশাপাশি নার্স হিসেবে চাকরি করতেন নরসিংদীর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। তার সহপাঠী মীর মাইনুল হকও চাকরি করতেন স্থানীয় একটি ডেন্টাল চেম্বারে। পড়াশোনা করতে গিয়ে সহপাঠী হওয়ায় তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে দীর্ঘদিনের প্রেম। যদিও উভয়ের পরিবার জানত তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছু নয়। এদিকে গোপনে তারা প্রেম চালিয়ে যাচ্ছিল।

ইতোমধ্যেই প্রেমিকা মিম যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন, সেটির মালিক ডাক্তারকে হঠাৎ করেই গো’পনে বিয়ে করে ফেলেন। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি জেনে প্রেমিক মাইনুলও অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেন। এতেই বিপ’ত্তি বা’ধে। কয়েক মাস একস’ঙ্গে থাকার পর প্রেমিকা মিম ও ওই ডাক্তারের মধ্যে বি’বাহবি’চ্ছেদ ঘটে। এদিকে প্রেমিক মাইনুল বিয়ে করে ফেলেছেন জেনে তাকে ভ’য়ং’করভাবে ঠা’ন্ডামা’থায় হ”ত্যার পরিকল্পনা করেন মিম। তার সেই পরিকল্পনা সফলও হয়।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মীমকে আ’টক করে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মীমই এই নৃ’শংস হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটিয়েছেন। গ্রে’প্তারকৃত মীমের বরাত দিয়ে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, মীম ও মাইনুল স্কুল জীবন থেকেই একে অপরের পরিচিত। দুজন স্থানীয় মুসা বিন হাকিম কলেজে একসঙ্গে পড়তেন। এক সময় দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্প’র্ক ছিল। কিছুদিন পর ওই সম্প’র্কে ফাটল ধরে। গত বছরের মাঝামাঝিতে মীম আরেক ছেলেকে বিয়ে করে ফেলেন। তিন মাস পর সেই বিয়ে ভে’ঙে যায়। এরপর আবার মাইনুলের সঙ্গে পুরোনো সম্প’র্ক জোড়া লাগে মীমের। কিন্তু এরই মাঝে শ্রাবন্তীর সঙ্গে প্রেমের সম্প’র্কে জড়িয়েছেন মাইনুল। গোপনে একই সঙ্গে দুজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চালাতে থাকেন মাইনুল।

এরপর পরিবারকে না জানিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শ্রাবন্তীকে বিয়ে করেন মাইনুল। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাসায় বসবাস করতে থাকেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন মাইনুল। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্ত্রী ও স্বজনেরা কল করে মোবাইল ফোন বন্ধ পান। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে তাঁরা। এরপর শুক্রবার সকালে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, একই এলাকার তরুণী মীমের সঙ্গে মীরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল মাইনুলের। তখন ওই মেয়ের বাড়িতে যায় পুলিশ। তবে মাইনুলের ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই দা’বি করেন মীম। যদিও প্রযুক্তিগত তদ’ন্তে মাইনুলের সঙ্গে মীমের একাধিকবার কথা বলার তথ্য পায় পুলিশ।

এরপর শনিবার বিকেল ৪টার পর মাইনুলের ডেন্টাল চিকিৎসক ডা. শিহাবুল হক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তালা খোলার পর অ’ভ্যর্থনা কক্ষে মাইনুলকে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ম’রদেহ উ’দ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এরপরই স’ন্দেহভাজন মীমকে বাসা থেকে গ্রে’প্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে মীম সব স্বীকার করেন।

পুলিশকে মীম জানান, মাইনুলের বিয়ে করার কথা জানতে পেরেই চেত’নানাশ’ক ইন’জেকশ’ন কেনেন মীম। কৌশলে মাইনুলকে তাঁর কর্মস্থলে ডেকে নেন। কেন তাঁকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা র’ক্ষা করা হলো না, সেটা জানতে চান। একপর্যায়ে মাইনুলের ঘাড়ে ইন’জেক’শন পু’শ করেন মীম। দু-তিন মিনিটের মধ্যে অ’চেতন হয়ে পড়েন মাইনুল। এরপর ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে মাইনুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান তিনি।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাইদুর মীর বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ইসরাত জাহান মীমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: