মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন জমির

প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৭:০৩ পূর্বাহ্ন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারস্বরূপ ভূমিহীনদের ঘর ও জমি উপহার দেয়া হয়। ভূমিহীন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘরসহ দুই শতক জমি পেয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার জমির উদ্দীন বিশ্বাস। স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে এতদিন ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন তিনি।

 

তবে এবার উপহারের সেই জমি ও ঘর ফেরত দিয়েছেন জমির। সম্প্রতি কলা ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে ৮ শতক জমি কিনেছেন তিনি। স্বাবলম্বী হয়ে ভূমিহীন হিসেবে পাওয়া ঘর ও জমি অন্য দরিদ্র অসহায় মানুষকে দেওয়ার জন্য জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফেরৎ দিয়েছেন তিনি।

 

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের মৃত খেদের বিশ্বাসের ছেলে জমির উদ্দীন ঘরসহ জমি ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন। পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন জমির। সারাদিনের উপার্জিত টাকায় চলত তার সংসার। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়ায় কষ্ট কিছুটা লাঘব হয় তার।

 

এরপর বিভিন্ন এলাকা থেকে কলা কিনে তা বাজারে বিক্রি করে জমির প্রতিমাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করেছেন। এতে মাসে তার আয় দাঁড়ায় ২০ থেকে ৩০ হাজার। ফলে তার পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন ভালোই আছেন তিনি।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ শে জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৮ টি ঘর উদ্বোধন করেন। ভূমিহীন দিনমজুর জমির উদ্দিন আন্দলবাড়িয়া আশ্রয় প্রকল্পে উপহারকৃত বাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করতেন। তিনি এখন স্বাবলম্বী। সম্প্রতি তিনি সস্ত্রীক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার বসত ঘর ও জমির দলিল জমা দেন।

 

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩ টায় জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, আন্দুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার জমির উদ্দিনের বাড়িতে হাজির হন এবং তার সাথে কথা বলেন।

 

মো. জমির উদ্দীন বিশ্বাস বলেন, এক সময় আমার নিজের মাথা গোজার কোনো ঠাঁই ছিলো না। নিজের কোনো জমিও ছিলো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মাথা গোজার জন্য ঘর ও জমি দিয়েছেন। নিজের মাথা গোজার ঠাঁই হওয়ার পর আমি নিশ্চিন্তে কলার ব্যবসা শুরু করি। আমি এখন বেশ স্বাবলম্বী। নিজের আয়ের টাকা দিয়ে ইতোমধ্যে ৮ শতক জমি কিনেছি এবং ওই জমির ওপর ঘরও তৈরি করেছি। যেহেতু আমার নিজের মাথা গোজার একটা ঠাঁই হয়েছে এ কারণে আমি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর ও জমি ফেরৎ দিয়েছি।

 

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি স্বাবলম্বী হয়ে নিজের টাকায় জমি কিনেছি এবং ঘর তৈরি করেছি। ফলে এখন আর এই ঘর ও জমি আমার প্রয়োজন নেই। সমাজে আরও ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আছে এই ঘরটা এখন তাদের প্রাপ্য। আমি চাই এই ঘরটা অন্য কোনো ভূমিহীন পরিবারকে দেওয়া হোক।

 

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে যাতে কেউ গৃহহীন মানুষ না থাকেন সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তিদের জমি এবং ঘর প্রদান করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় জীবননগর উপজেলার শাহপুর গ্রামের দিনমজুর জমির উদ্দিনকে একটি ঘর দেয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জমির উদ্দীন পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হওয়ায় নিজ নামে জমি কিনে ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। এজন্য সে নিজ নামে অন্য স্থানে জমি কিনে ঘর করে বসবাস করায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমি ও ঘর হস্তান্তর করেন এবং অন্য কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে সেই ঘরটি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তার এই মহতী উদ্যোগের জন্য জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: