মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

হাজতখানায় সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন ছাত্রলীগ নেতা!

প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৪:২২ অপরাহ্ন

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় বামনা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোর্শেদ শাহারিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন জনির তোলা সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভা’ইরাল হয়েছে। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তিনটি ছবি নিজের ভেরিফা’য়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে ছাত্রলীগ নেতা মোর্শেদ শাহারিয়া লেখেন, ‘নৌকার নির্বাচন করতে গিয়ে কা’রাবরণ করতে হলো আমাদের’।

 

ছবিতে দেখা যায়, সেলফিটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় দাঁড়িয়ে তোলা। এটি তুলেছেন বামনা ছাত্রলীগ সভাপতি মোর্শেদ শাহারিয়া। তার সঙ্গে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক জনি। বাকি দুটি ছবির একটি হাজতখানার মধ্য থেকে তোলা। আরেকটি ছবি এজলাসের কাঠগড়ায়। এই দুই ছাত্রলীগ নেতার এজলাস ও আদালতের হাজত’খানায় তোলা ওই ছবি তাদের সমর্থকরা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। হাজতখানায় সেলফি তোলা ও ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে বি’স্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

 

ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে কোর্ট ইন্সপেক্টর মারুফ আহমেদ বলেন, ‘আদালতের বাইরে থেকে তার সমর্থকরা গো’পনে ছবি তুলে নিয়ে যেতে পারেন। তবে, হাজত’খানার ভেতরে মোবাইল নিয়ে সেলফি তোলার কোনো সুযোগ নেই।’ এসময় আদালতের হাজতখানা’র মধ্যে তোলা সেলফি তাকে দেখানো হলে তিনি বলেন, ‘হাজতখানার দায়িত্বে যেসব পুলিশ সদস্য ছিলেন তাদের গা’ফিল’তি থাকতে পারে। এ বিষয়ে ক’ঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মাম’লার বাদী তারিকুজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আ’দালতের এজলাস থেকে শুরু করে হাজতখানার মধ্যেও তারা মোবাইল নিয়ে সেলফি তুলেছেন। ফেসবুকে আবার সেসব ছবি পোস্ট করেছেন। আমি এখন নি’রাপত্তাহী’নতায় ভুগছি।’ এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আ’দালতের সরকারি কৌঁসুলি ভুবন চন্দ্র দাস বলেন, ‘আদালতের ভেতরে ছবি তোলা বা ভি’ডিও করা দ’ণ্ডনীয় অপরা’ধ। কোড অব কন্ডাক্ট ইন দ্য কোর্টের ১৩ নম্বর ক্রমিকে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, আদালতের ভেতরে ছবি তোলা, ভিডিও করা যাবে না। সেক্ষেত্রে এ কাজ যারা করবেন, তারা আদালত অবমা’ননার দায়ে দ’ণ্ডনীয় অ’পরাধ করবেন।’

 

মাম’লা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ মার্চ বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী দুই গ্রুপের মধ্যে সং’ঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় বামনা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিকুরুজ্জামান সোহাগ বাদী হয়ে বরগুনা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ মা’মলা করেন। মামলায় বামনা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়া গোলদার ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন জনিসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অ’জ্ঞাতপরিচয় আরও ৭-৮ জনকে আসা’মি করা হয়।

 

বুধবার বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মজুমদারের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ১৩ আসামি। বিচারক ১১ আসামির জামিন মঞ্জুর ও অপর দুই আসামির (বামনা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: