বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

আছমার সঙ্গে জঙ্গলে ২ ঘণ্টা, পৈচাশিক আনন্দ নিয়ে ফিরলো আলমগীর

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৬:০২ অপরাহ্ন

কথা ছিল স্বামীর সঙ্গে ঘুরবেন, ছবি তুলবেন; এরপর হাসিমুখে ফিরবেন বাড়ি। স্বামী পৈ’চাশি’ক আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরলেও, জঙ্গলেই নি’থর হয়ে পড়ে আছেন অ’ন্তঃস’ত্ত্বা আছমা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি গহীন জঙ্গল থেকে পুলিশ ও স্বজনরা নি’হত আছমা বেগমের লা’শ উ’দ্ধার করে।

স্বামী আলমগীর, শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে আসা’মি করে নিহ’ত আছমার পিতা আলী মিয়া বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় হ’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেছেন। পুলিশ ঘা’তক স্বামী আলমগীরকে গ্রে’ফতার করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হ’ত্যা’র দা’য় স্বীকার করে। পরে তাকে আজ শুক্রবার বিকেলে আ’দালতে প্রেরণ করা হলে সেখানেও ১৬৪ ধারায় জ’বানব’ন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে।

হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমার সরকারের আদালতে সে এই জবানব’ন্দি দেয়। লা’শ উ’দ্ধারকারী ও মাম’লার তদ’ন্ত কর্মকর্তা চুনারুঘাট থানার এসআই লিটন ঘোষ জানান, নি’হত আছমা বেগম গ’র্ভবতী ছিলেন। আছমাকে গলায় গেঞ্জি পেঁচিয়ে শ্বা’সরো’ধে হ’ত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া তার মুখমণ্ডলে আ’ঘা’তের চিহ্ন আছে।

আলমগীর স্বী’কারো’ক্তিতে জানিয়েছে, দাম্পত্য কলহ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরো’ধকে কেন্দ্র করে সে তার স্ত্রীকে হ’ত্যা’ করেছে। মাধবপুর বাজারে কেনাকাটা, চা বাগান, পাহাড় দেখা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বেড়ানোর কথা বলে স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি সিএনজি অটোরিকশা ১৫ শ টাকায় ভাড়া নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। মাধবপুর বাজারে সামান্য ঘোরাফেরা করে রাস্তার দুপাশে চা বাগান দেখে সকাল ১০টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পৌঁছে।

চালককে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে দাঁ’ড় করিয়ে রেখে স্বামী-স্ত্রী মিলে সাতছড়ির দক্ষিণের গহীন জ’ঙ্গলে ঢুকে যায়। ২ ঘণ্টা পর আলমগীর আছমাকে জঙ্গলে রেখে একা ফিরে আসে। এ সময় তার চোখেমুখে বি’ষণ্ন’তার ছা’প দেখে অটোরিকশা চালক জানতে চায়, ‘আপনার সঙ্গী কোথায়?’ জবাবে আলমগীর বলে, ওই নারী খারা’প চরিত্রের। তাকে জঙ্গলে রেখে চলে এসেছি। সে অন্য পুরুষের সঙ্গে খারা’প কাজে লি’প্ত রয়েছে।

আছমার পিতা জানান, আলমগীরের সঙ্গে আছমার বিয়ে হয় ৩ বছর আগে। বিয়ের পর আছমার শ্বশুর নূর ইসলাম আছমার সোনার গয়না বিক্রি করে দেয়। সেগুলো ফেরত চাইতে গেলে বহুবার শ্বশুর ও স্বামীর সঙ্গে আছমার ঝগ’ড়া হয়। এ কারণে আছমাকে স্বামী আলমগীর জ’ঙ্গলে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে খু’ন করেছে। স্ত্রীকে হ’ত্যা’ করে বিকেলে বাড়ি ফিরলে আলমগীরের কাছে আছমার পরিবারের লোকজন তার স’ন্ধান জানতে চাইলে সে অ’সংলগ্ন জবাব দেয়।

পরিবারের লোকজনের স’ন্দেহ হলে বুধবার রাতে আলমগীরকে নাসিরনগর থানায় পুলিশের হাতে সো’পর্দ করে। পুলিশের কাছে স্ত্রী হ’ত্যা’র বর্ণনা দিলে পুলিশ ও আছমার আত্মীয়-স্বজন পর্যটন বিভাগের লোকজন নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২ ঘণ্টা তা’ল্লাশি চালিয়ে একটি টিলার ওপর থেকে আছমার ম’রদেহ উদ্ধার করে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: