মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

গোপন সমস্যার কথা জানাতে রাতে ফার্মেসিতে গিয়েছিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

ধ’র্ষ’ণের কথা সবাইজে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলতেই খু’ন করা হয় প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জোৎস্নাকে (৩৪)। প্রথমে তিনজনে মিলে শ্বা’সরো’ধ করে হ’ত্যা করে জোৎস্নাকে। এরপর ফল কা’টার ছু’রি দিয়ে ম’রদেহকে ছয় টু’করা করা হয়। নৃ’শং’স এই ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে।

 

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের অভি মেডিকেল হল নামের একটি ওষুধের দোকান থেকে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার ছয় টুকরা ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পুলিশ। নি’হত জোৎস্না জগন্নাথপুর থানার নারকেলতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছরকু মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহ’তের ভাই হেলাল উদ্দিন বা’দী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হ’ত্যা মাম’লা করেন।

 

সেই ঘটনার তদ’ন্তে নেমে ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গো’পসহ তিনজনকে গ্রে’ফতার করে সিআইডি। গ্রে’ফতাররা হলো- জিতেশ চন্দ্র গোপ (৩০), অনজিৎ চন্দ্র গোপ (৩৮) ও অসীত চন্দ্র গোপ (৩৬)। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিআইডির সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর হ’ত্যা’কা’ণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, ওষুধ কেনার সুবাদে অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশের সঙ্গে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার সুসম্প’র্ক গড়ে ওঠে। জোৎস্না কিছুদিন ধরে শারী’রিক গোপ’ন সমস্যায় ভুগ’ছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জিতেশ জোৎস্নার মায়ের প্রেশার মা’পার জন্য তাদের বাড়িতে যায়। তখন জোৎস্না তার গো’প’ন সম’স্যার কথা জিতে’শকে জানালে সে তাকে ফার্মেসিতে যেতে বলে।

 

ওইদিন বিকেলে জোৎস্না জিতেশের দোকানে গেলে দোকানে কাস্টমার রয়েছে বলে তাকে অপেক্ষা করতে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এদিকে রাত গভীর হলে জোৎস্নার বাসায় যাওয়ার অস্থিরতা বেড়ে যায়। তখন ওই ফার্মেসির মধ্যে জোৎস্নাকে একটি ঘুমে’র ওষু’ধ খেতে দেয় জিতেশ। এতে তিনি তন্দ্রা’চ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তখন জিতেশ তার দুই সহযোগী অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত গোপকে নিয়ে ‘ধর্ষ’ণে’র পরিকল্পনা করে। এরপর রাত গভীর হলে আশপাশের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তখন জিতেশ ও তার দুই সহযোগী এনার্জি ড্রিংকস পান করে জোৎস্নাকে জো’রপূর্বক সং’ঘব’দ্ধ ধ’র্ষণ করে। সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ধ’র্ষণে’র বিষয়টি জোৎস্না তার পরিবারকে জানাবে বলে জানান। তখন জিতেশ ও তার সহযোগীরা জোৎস্নার গলায় ওড়না পেঁ’চিয়ে মুখে বা’লিশচাপা দিয়ে শ্বাস’রোধ করে হ’ত্যা’ করে।

 

মুক্তা ধর বলেন, পরে ওই ফার্মেসিতে থাকা ফল কা’টার ছু’রি দিয়ে জোৎস্নার দুই হাত, দুই পা ও বুক-পে’টসহ ছয় টু’করা করে। এরপর দোকানে থাকা ওষুধের কার্টন দিয়ে খ’ণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে তারা ফার্মেসি তালা দিয়ে পা’লিয়ে যায়। পরে ওই ম’রদে’হের খ’ণ্ডিত অংশ পাশের একটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় ও লোকজন চলে আসায় তারা সেই কাজটি করতে পারেনি। এই ঘটনার পর সিআইডির এলআইসি শাখার একাধিক দল আসা’মিদের গ্রে’ফতারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভি’যান চালায়। শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ভাটারা থানার নুরেরচালা এলাকায় অভি’যান চালিয়ে জিতেশকে গ্রে’ফতার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানার পৌর এলাকায় অভি’যান চালিয়ে অনজিৎ ও অসীত গো’পকে গ্রেফ’তার করা হয়।

 

গ্রেফতার জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জ জেলার ইতনা থানার শহিলা গ্রামের যাদব চন্দ্র গো’পের ছেলে, অনজিৎ চন্দ্র গোপ একই এলাকার রসময় চন্দ্র গোপের ছেলে এবং অসীত চন্দ্র গোপ নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার সুয়াইর অলিপুর গ্রামের পতিত পবন গোপের ছেলে। নিহত জোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজের বাসায় দুই ছেলে, এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: