মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:২৮ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়ার সাথে সমঝোতা সইয়ের দুই মাস, যেদিন থেকে কর্মী যাবে

প্রকাশিতঃ রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৬:০২ পূর্বাহ্ন

গেলো বছরের ১৯ ডিসেম্বর সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। প্রায় ৪০ মাস পর সোর্স কান্ট্রি (কর্মী পাঠানো দেশ) হিসেবে আবারো যুক্ত হলো বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তুতিও শেষের দিকে। এরই মধ্যে নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে কর্মী চাহিদার আবেদন নিচ্ছে দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

 

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২ জন কর্মীর চাহিদা জানিয়ে আবেদন করেছেন নিয়োগদাতারা। এরইমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি কর্মীর চাহিদাপত্রে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। একইসাথে বাংলাদেশের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ পুরাতন চাহিদাপত্র নতুন করে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর চলে গেছে দুই মাস। কিন্তু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে এখন পর্যন্ত কারিগরি বিষয়গুলোই চুড়ান্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে তিন বছরের বেশি সময় মালয়েশিয়া যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের হতাশা বাড়ছে। অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আবার কারো কারো মালয়েশিয়া যাওয়ার নির্ধারিত বয়সসীমা পাড় হয়ে যাচ্ছে।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে কারিগরি বিষয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মীদের দেশটিতে যেতে খরচ বা অভিবাসন ব্যয় কত হবে, ডাটা ব্যাংকে নিবন্ধন করা প্রয়োজন কিনা আর প্রয়োজন হলে কবে থেকে চালু হবে, বাংলাদেশে একটি অনলাইন পদ্ধতি চালু করা এবং মালয়েশিয়া সরকারের কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতির সাথে এই পদ্ধতি কিভাবে যুক্ত হবে, এমন নানা বিষয়ে আলোচনা ও কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

 

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো- বিএমইটির মহাপরিচালক শহিদুল আলম এনডিসি জানান, “মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে কিভাবে ডাটা ব্যাংক হবে, এ সংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে। দেশটির চাহিদা বিবেচনা এবং ডাটা ব্যাংকসহ অনলাইন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার কাজও করছে বিএমইটি। আর মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ ও দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনাসহ অন্যান্য কারিগরি ও নীতি নির্ধারনী কাজ করছে মন্ত্রণালয় (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়)।“

 

এদিকে, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে উড়োজাহাজ ভাড়াসহ মালয়েশিয়া অংশের যাবতীয় খরচ বহন করার কথা নিয়োগদাতাদের। অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশে পাসপোর্ট করা, কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেডিকেল), কল্যাণ বোর্ড সদস্য ফিসহ আনুসাঙ্গিক খরচ বহন করবেন কর্মী। সেই সাথে রয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ। এসব মিলিয়ে বাংলাদেশ অংশে একটি সম্ভাব্য খরচ নির্ধারণ করতে হবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরই এবিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানানো হলেও, দুই মাসেও তা চুড়ান্ত করতে পারেননি কর্মকর্তারা।

 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ সবশেষ জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদিও আমার এই উদ্দেশ্যকে ব্যবসায়িদের কয়েকটি গ্রুপ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। আমার উদ্দেশ্যটা সুস্পষ্ট করে বলতে চাই। প্রথমত আমার উদ্দেশ্য হলো আমার দেশ, দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমার কর্মীরা- এই দুটিই হচ্ছে আমার উদ্দেশ্য। ব্যবসায়িদের বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের স্বার্থ দেখছে, কর্মীদের স্বার্থ দেখছে না। এখানে আমি একমাত্র কর্মীদের স্বার্থ নিয়েই থাকবো।“

 

মালয়েশিয়া কর্মী নিয়ে তাদের অংশে প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। কর্মী চাহিদাপত্র অনুমোদনও শুরু করেছে দেশটির সরকার কিন্তু কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে ? এমন প্রশ্নে মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, “আমাদের ডাটাব্যাংক প্রস্তত আছে। অন্য বিষয়গুলোও চুড়ান্ত প্রায়। মোট কথা আমরা প্রস্তুত আছি। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের কর্মী চাহিদাপত্র বা মূল ভিসা আনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইং-এর সত্যায়ন বাধ্যতামূলক। হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়নি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: