মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

শহীদ মিনারে ছাত্রলীগ নেতাকে মেরে মাথা ফাটালেন ছাত্রলীগ নেত্রী

প্রকাশিতঃ সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় এক ছাত্রলীগ নেতাকে মে’রে র’ক্তাক্ত করার অভি’যোগ উঠেছে একই সংগঠনের নেত্রী বেনজীর হোসেন নিশির বি’রু’দ্ধে। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ অভি’যোগ অ’স্বীকার করেছেন বেনজীর হোসেন নিশি। অভি’যুক্ত নিশি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। আর আ’হত মো. এহসানুল হক ইয়াসির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। বর্তমানে সলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী তিনি।

 

ইয়াসির জাগো নিউজকে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে আমরা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ফুল দিতে যাই। সেখানে যাওয়ার সময় আমাদের পেছনে ধা’ক্কাধা’ক্কি হয়। এসময় হঠাৎ করে বেনজীর হোসেন নিশি এসে তার মোবাইল দিয়ে আমার মাথায় এ’লোপাতা’ড়ি আঘা’ত করতে থাকেন। এতে মাথা ফে’টে র’ক্ত বের হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা পরিচিতরা আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে দেওয়া হয় চিকিৎসা। তিন-চারটি সেলাই লেগেছে আমার।

 

তিনি বলেন, এখন আমি বাসায় চি’কিৎসা নিচ্ছি। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে আমার। এ ঘটনার বি’চার দা’বি করছি। তবে ইয়াসিরকে মা’রধ’রের অভি’যোগ অ’স্বীকার করেছেন বেনজীর হোসেন নিশি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শহীদ মিনারে কারো সঙ্গে আমার বি’বাদ হয়নি। মি’থ্যা অভি’যোগ দেওয়া হচ্ছে আমার নামে। আমি শুধু জেনেছি, শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়া কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে কে বা কারা শ্লী’লতাহা’নি করছিল।

 

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কোনো নেতা অপ’রাধ করলে তার বি’রু’দ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে কেন্দ্রীয় সংসদের সভা। কিন্তু শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের নেতাকে পি’টিয়ে র’ক্তা’ক্তের ঘটনার সঙ্গে জ’ড়িত ব্যক্তি আগেও আরেক নারী নেত্রীকে মা’রধর করেন। তার বি’রু’দ্ধে যদি আগে ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে আজকে এ ঘটনা ঘটতো না। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ঘনি’ষ্ঠজন হওয়ায় তার বিরু’দ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

মা’রধরে’র কথা শুনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃ’খজনক। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ যদি এটার সঙ্গে জ’ড়িত থাকে, তাহলে তা আরও বড় দুঃখের বিষয়। এর আগেও একজন ছাত্রলীগ নেত্রীকে মা’রধ’রের ঘটনা সাংগঠনিকভাবে সুরাহা হয়নি। পরে এটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। যারা এসব সংগঠনবিরো’ধী কাজ করে তাদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মেশকাত হোসেন বলেন, অভি’যুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রীর বি’রু’দ্ধে এর আগেও কয়েকজনকে মা’রধ’র ও অ’সদাচ’রণের অ’ভিযোগ রয়েছে। শা’স্তি না হওয়ায় তিনি বেপরো’য়া হয়ে উঠেছেন। তার এসব কর্মকা’ণ্ড প্রমাণ করে সংগঠনে শৃঙ্খলা নেই। এসব বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

এর আগে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ প্রাঙ্গণে ফাল্গুনী দাস তন্বী নামে এক ছাত্রলীগ নেত্রীকে পি’টিয়ে আহত করার অ’ভিযোগ রয়েছে বেনজীর হোসেন নিশির বিরু’দ্ধে। এ অভি’যোগে আদলতে মামলাও হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তদন্ত করে সেই মামলার। তদ’ন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত এই ছাত্রলীগ নেত্রীসহ তার পাঁচ সহযোগীর বিরু’দ্ধে গ্রেফ’তারি পরোয়ানা জা’রি করেন। পরে তারা আ’দালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে তা মঞ্জুর হয়। সেই মা’মলা এখনো চলমান। সুত্রঃ জাগো নিউজ।  


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: