বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

১৩ বছরের শিশু জন্ম দিল আরেক শিশু, এলাকায় তোলপাড়

প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সে এক শিশুর কোলে আরেক শিশুর জন্ম নিয়ে এলাকায় তো’লপা’ড়ের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযো’গের তীর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের সিংহগ্রামের হরিদাস ভৌমিকের দিকে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়দের নিয়ে একটি বি’চার-সা’লিশ করেন। সেখানে অ’ভিযুক্ত হরিদাস ভৌমিকের সঙ্গে চার বছর পর বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে চার বছর পর মেয়েকে নিয়ে সে ঘর সংসার করবে কিনা সে শ’ঙ্কাও প্রকাশ করেন শিশুটির মা।

অ’ভিযুক্ত হরিদাস ভৌমিক নরেশ মল্লিকের ছেলে। মেয়েটির মা জানান, আমার স্বামী বাড়িতে থাকেন না। আমিও মানুষের বাড়িতে কাম-কাজ করি। নিজের ঘরবাড়ি না থাকায় হরিদাস ভৌমিকের বাড়ির পাশে একটি পরিত্য’ক্ত ঘরে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকতাম। কিন্তু আমি বাড়িতে না থাকার সুযো’গে হরিদাস আমার মেয়েকে প্রাণনা’শের হু’মকি দিয়ে একাধিকবার ধ’র্ষ’ণ করে। সেই ধ’র্ষ’ণের ফল আজ আমার শিশু মেয়ের কোলে আরেক শিশুসন্তান জন্ম নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের লোকজন মিলে সালিশ করে আমার মেয়েকে হরিদাস স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার সি’দ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেটি চার বছর পর। এত বছর পর মেয়েকে নিয়ে সে ঘর সংসার করবে কিনা সে শ’ঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে শুক্রবার রাতে গ্রামের শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বি’চার-সা’লিশের আয়োজন করে এলাকাবাসী। সালিশে একটি জুড়িবো’র্ড করে ৩০০ টাকার একটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কিছু শর্ত দিয়ে চু’ক্তি করার সি’দ্ধান্ত হয়।

চু’ক্তিতে উল্লেখ থাকছে, মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূ’র্ণ হলে উভয়ের বিয়ে হবে। পাশাপাশি মেয়েটিকে ৩০ শতক জমি দেওয়া হবে মেয়েটির নিরাপ’ত্তার জন্য। সালি’শকারক রামপ্রসাদ মল্লিক বলেন, যেহেতু মেয়েটির বয়স ১৮ হয়নি, তাই আ’ইনগতভাবে বিয়ে দেওয়া যাবে না। তাই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এলাকাবাসীর সম্ম’তিতে। আইন-আদালত ছাড়া গ্রাম্য সালিশে ধ’র্ষণে’র বি’চার কতটা যৌ’ক্তিক জানতে চাইলে বলেন, সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিই রায়ে ঘোষণা করা হয়েছে।

অ’ভিযু’ক্ত হরিদাস ভৌমিকের বক্তব্য নিতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ছোট ভাই গৌরদাস ভৌমিক মোবাইল ফোনে বলেন, আমার ভাই এ ঘটনার সঙ্গে জ’ড়িত নয়। তাই আ’দালতের মাধ্যমে উভয়ের ডিএনও টেস্ট করে পরীক্ষার পর আমার ভাই দো’ষী হলে যে কোনো রায় আমরা মেনে নেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃ’খজনক। ভু’ক্তভো’গী পরিবারের সদস্যরা আই’নের সহায়তা চাইলে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। এ বিষয়ে নাসিরনগর থানা ওসি মো. হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মা’মলা হবে। মেয়ের পরিবার এ ঘটনায় একটি মা’মলা করবে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: