বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

খুলনা থেকে ভারতীয় স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো কচ্ছপ উদ্ধার

প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

খুলনার দিঘলিয়ায় ভারতীয় স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিঘলিয়া উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় এক জেলের জালে কচ্ছপটি ধরা পড়ে। ওই দিন গাজীরহাট ক্যাম্প পুলিশ সেটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগকে খবর দেয়। এরপর রবিবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেটিকে উদ্ধার করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যান।

 

করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, শনিবার খুলনার দিঘলিয়ার গাজীরহাটে জেলের জালে কচ্ছপটি ধরা পড়ার পর সেটি প্রথমে পুলিশ উদ্ধার করে। এরপর বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের সিএফ মিহির কুমার খবর পেয়ে আমাদেরকে জানালে আমরা সেটি করমজলে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

তিনি বলেন, এ সকল প্রাণী প্রকৃতির ইকোসিস্টেম রক্ষা করে থাকে। এর বিলুপ্তি ও অনুপস্থিতে ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে থাকে। বিলুপ্তপ্রায় এই কচ্ছপের সংরক্ষণ এবং প্রজননে সরকারি প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর এলাকায় প্রকল্প করা হলে তা আরো ফলপ্রসূ হবে। কারণ এগুলো নদী-সাগর ও সুন্দরবনে ছাড়া থাকলে বা অবমুক্ত করলে তা জেলেদের জালে আটকে পড়ে মারা যায়।

 

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বাটাগুরবাস্কা প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব জানান, মূলত বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এ বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, খাদ্যাভ্যাস এবং প্রজনন সম্পর্কে জানতে ভারতের টাইগার প্রজেক্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সেদেশের সজনেখালী এলাকার কুলতলীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো ১০টি পুরুষ কচ্ছপ অবমুক্ত করে। এর ১১দিনের মাথায় সেটি নদী-সাগর পার হয়ে এদেশের খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটে চলে আসে।

 

তিনি বলেন, ভারতের এ ধরনের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো আরও একটি কচ্ছপ পূর্ব সুন্দরবনের বলেশ্বর ও সাউথখালীর নদীতে বিচরণ করছে। ভারতের টাইগার প্রজেক্টে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সমৃদ্ধ ১০ বাটাগুরবাস্কার পাশাপাশি ২শ কচ্ছপ রয়েছে। তিনি আরো জানান, এক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারে বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্ব ছিল। এখন যা বিলুপ্ত প্রায়। এসব দেশের উপকূলীয় এলাকায় দুই একটির যৎসামান্য অস্তিত্ব রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করেই এ গবেষণার কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আ. রব বলেন, বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণ, প্রজনন, গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, পানিতে ডুবে ও ভেসে থাকার সময় নির্ণয়সহ নানা কার্যক্রম জানতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, অস্ট্রিয়ার ভিজুয়েনা, আমেরিকার টিএসএ ও ঢাকার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে কাজ করছে। পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে এ প্রকল্পের অবকাঠামোর কাজ শুরু হয়। এরপর ২০১৮ সালে প্রকল্পের কাজ চালু হয়।

 

২০১৮, ১৯ ও ২০ সালে দফায় দফায় ১৫টি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সমৃদ্ধ কচ্ছপ সুন্দরবন ও সাগর মোহনায় অবমুক্ত করা হয়। কচ্ছপের পিঠে বসানো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের কার্যক্ষমতা এক বছরের। এরপর এমনিতেই এটি খসে পড়ে যায়। এক বছরেই এর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। আর এসে সংগ্রহ করে থাকেন অস্ট্রিয়ার ভিজুয়েনা ও আমেরিকার টিএসএ’র গবেষকেরা। এ প্রজেক্টে ব্যাপক সফলতা এসেছে বলেও জানান তিনি। ১৫ টি নিয়ে কাজ শুরু হলেও এখন করমজলে এর সংখ্যা সাড়ে ৪শ।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: