মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন

কারাগারে ভাল নেই মিন্নি, শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা অসুখ

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০২২, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

স্বামী শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে হ’ত্যা’য় মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বর্তমানে কাশিমপুর মহিলা কা’রাগারের কনডেম সেলে বন্দি আছেন। পরিবারের দাবি, কারাগারে ভাল নেই মিন্নি। নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। সরাসরি সাক্ষাৎ না হলেও টেলিফোনে পরিবারের সাথে সপ্তাহে একদিন কথা হয় তার। তাকে এখন চেনাই দু’ষ্কর। তার মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বিরু’দ্ধে আপিল করলেও ক’রো’নার কারণে উচ্চ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে আপিলের কোন অগ্রগতি নেই।

 

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা শহরের সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হ’ত্যা করা হয় শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তারই স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। পরবর্তীতে মিন্নিই হয়ে যান মাম’লার অন্যতম আসা’মি। কারণ তার পরিকল্পনাতেই প্রেমিক নয়ন বন্ড হ’ত্যা’ করেছিল স্বামী রিফাতকে। পরে ওই বছরের ২ জুলাই পুলিশের সাথে বন্দু’কযু’দ্ধে নিহ’ত হন নয়ন বন্ড। রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডে দায়ের করা মাম’লায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের আদেশ দেন। আ’দালতের আদেশের পর বরগুনা জেলা কা’রাগার থেকে মিন্নিকে নেওয়া হয় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। সেখানে ক’নডেম সেলে অবস্থান করছেন মিন্নি।

 

নিম্ম আদালতের দেওয়া মিন্নির মৃ’ত্যুদ’ণ্ডে’র রায়ের বিরু’দ্ধে আপিল করেছে তার পরিবার। করো’নার কারণে উচ্চ আদালত বন্ধ থাকায় আপিল শুনানি হয়নি। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বভাবিক হয়ে আসায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আপিলের শুনানি নিষ্পত্তি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কা’রাগারের একটি সূত্র জানায়, কা’রাগারের কন্ডেম সেলে সুস্থ আছে মিন্নি। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত আসা’মিরা সাধারণত কনডেম সেলে একা থাকে। কিন্তু কাশিমপুর মহিলা কা’রাগারে অতিরিক্ত কয়েদি থাকায় একটি কনডেম সেলে তিনজনকে রাখা হচ্ছে।

 

কারাগারের ওই সূত্রটি জানায়, ক’রো’নার কারণে কয়েদিদের সাথে সাক্ষাত একেবারেই বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতি সপ্তাহে পরিবারের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ আছে। মিন্নি পরিবারের সরাসরি সাথে সাক্ষাত করতে না পারলেও টেলিফোনে কথা বলেন প্রতি সপ্তাহে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ঢাকাটাইমসকে বলেন, কারাগারে মিন্নি ভালো নেই। সেখানে খেতে পারে না, ঘুমাতে পারে না। সব সময় অসুস্থ থাকে। তার শরীরে নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে। অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে মিন্নি। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে তাকে চেনাই এখন দুষ্কর।

 

তিনি বলেন, ওর দাঁতে ব্যাথা ছিল। শুনেছি কারাগারের চিকিৎসক তার দাঁত তুলেছে। দাঁতের ব্যাথার জন্য তাকে দুই থেকে তিনবার কা’রাগারের বাইরেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিম্ম আদালতে ফাঁ’সির আদেশ দেওয়ার তিন থেকে চারদিনের মধ্যেই আমরা আপিল করেছি। ক’রো’নার কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোন অগ্রগতি নেই। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নি ছাড়াও অন্য যারা ফাঁসির আদেশ পেয়েছেন তারা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, মো. রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় ও মো. হাসান। খালাস পেয়েছেন মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল হাসান সাইমুন নামে চারজন।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: