মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

প্রেমের টানে বরিশালে জার্মান তরুণী, ঘোড়ার গাড়িতে নেওয়া হলো বাড়িতে

প্রকাশিতঃ রবিবার, ৬ মার্চ, ২০২২, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

ভালোবাসার টানে অনেকেই সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিতে চায়। এবার এমনই এক ঘটনা ঘটেছে বরিশালে। প্রেমের টানে সুদূর জার্মানি থেকে বাংলাদেশের বরিশালে ছুটে এসেছেন আলিসা থেওডোরা পিত্তা নামে এক তরুণী। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি বিয়ে করেন ব‌রিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিব হোসেন শুভকে। শুক্রবার (৪ মার্চ) বিকেলে আলিসাকে নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন শুভ।

 

এরপর শনিবার (৫ মার্চ) হেলিকপ্টারে করে বরিশালে এবং সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে যান শুভ। বিদেশি বউ নিয়ে আসার খবরে দলবেঁ’ধে শুভর বাড়িতে আসেন গ্রামবাসী। জানা যায়, শুভ রেলওয়ে ডিপ্লোমা পাস করে ২০১১ সালে জার্মানিতে পাড়ি জমান। সেখানে সিটি রেলওয়ে সার্ভিসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ নেন। একপর্যায়ে স্থানীয় বেইলি ফিল্ড ডায়ালন্ড্রোভ এলাকার বাসি’ন্দা আলিসা থেওডোরা পিত্তার সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর প্রেমের সম্প’র্কে জ’ড়ান তারা। তবে সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়নি। এজন্য বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে আলিসাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন শুভ। বউভাত ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন তারা। আলিসা পেশায় নার্স। তার বাবা ও মা সেখানের চাকরিজীবী।

 

শুভ বলেন, গত বছরের ৫ মার্চ এলিসা ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন আলিসা বেগম হিসেবে আমার সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আব’দ্ধ হয়। শনিবার আমাদের বিয়েবার্ষিকী। তাই শুক্রবার জার্মানি থেকে রওয়ানা হয়ে বাংলাদেশি আসি। শ‌নিবার সকালে হেলিকপ্টার চেপে আলিসাকে নিয়ে বরিশালে গ্রামের বাড়ি আসি। আলিসার সঙ্গে এসেছেন তার বান্ধবী লেইসা। শুভ বলেন, জার্মানিতে একই এলাকার বাসি’ন্দা হওয়ায় প্রায়ই আলিসার সঙ্গে দেখা এবং কথা হতো।

 

এভাবে কিছুদিন চলার পর আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সম্প’র্ক চলে অনেক দিন। দুইজনই অনুভব করতাম আমাদের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নেওয়ার বিষয়টি। কিন্তু প্রস্তাব কে আগে দেবে, এটি নিয়ে দ্বি’ধাদ্ব’ন্দ্বে ছিলাম। বিষয়টি মাথায় রেখে দুইজন-দুইজনকে আরও বোঝার চেষ্টা করলাম। যখন অনুভব করলাম আলিসা আমাকে মনেপ্রাণে চায়। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম প্রস্তাব দেওয়ার।

 

তিনি বলেন, একদিন আলিসার মনের অবস্থা বুঝে ভালোবাসার কথাটা জানালাম। উত্তর আসার সঙ্গে সঙ্গে বুঝলাম, আলিসাও অপে’ক্ষায় ছিল প্রস্তাবের। ভালোবাসা হয়ে যাওয়ার পর আর সেভাবে ভালোবাসার কথা বলা হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিষয়টি আমার পরিবারকে জানাই। তাদের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়ার পর আলিসাকে তার পরিবারকে রাজি করাতে বলি।

 

আলিসার পরিবারও আমাদের ভালোবাসায় সম্মতি দেয়। বিয়ের আগে আলিসাকে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করতে বলি। এতে রা’জি হয়ে যায়। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে আমরা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হই। শুভ বলেন, বাংলাদেশে আসতে গেলে আমাদের দুইজনকেই ছুটি নিতে হবে। এজন্য আমরা আগেভাগে বিয়েবার্ষিকীর দিনটা ঠিক করে রাখি। ওই দিন দেশে যাবো। সেভাবে ছুটি নিয়ে জার্মানি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে চলে আসি বরিশালে। দেশের মাটিতে পা রাখার পর কতটা যে ভালো লেগেছে, তা বলে বোঝাতে পারবো না।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা বিয়ে করেছি বিদেশে। সেখানে আমাদের সমাজের যে রীতি-নীতি ও উৎসব তা পালন করতে পারিনি। আমাদের দেশের বিয়েতে যতটা উৎসব হয়, তাও হয়নি। আমি চাই, নতুনভাবে বিয়ের উৎসব করতে। আলিসাও আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হবে। সেও চাচ্ছে, এদেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী বিয়ের উৎসব হোক। আমার এবং আলিসার আবদারে আমার বাবা-মা ও স্বজনরা নতুনভাবে বিয়ের উৎসবের আয়োজন করছেন।

 

আগামী ৯ মার্চ হবে আমাদের গায়ে হলুদ। ১০ মার্চ গ্রামবাসীর জন্য বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শুভর বাবা চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলে বিদেশে বিয়ে করেছে, সেখানেই থেকেছে এত দিন। অনেক দিন পর পুত্রবধূকে নিয়ে দেশে ফিরেছে। গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনকে ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিতে পারিনি। এজন্য গায়ে হলুদ ও বউভাতের আয়োজন করেছি। তাদের বিয়েতে আমি অনেক খুশি।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: