শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

খাদ্য চেয়ে ১০০ প্যাকেট জরিমানা, ৭৫ হাজার টাকা ফেরত পাচ্ছেন ফরিদ

প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৩ মে, ২০২১, ২:৫৯ অপরাহ্ন

বাবার রেখে যাওয়া ভবনের তিনতলার এক পাশের ছাদে টিনশেডের দুটি ছোট কামরায় একমাত্র প্রতিব’ন্ধী ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন ফরিদ উদ্দিন (৫৭)। একটি হোসিয়ারি দোকানে চাকরি করে মাসে ১০ হাজার টাকা বেতনে কোনো মতে চলে তার সংসার। মাস তিনেক আগে ব্রেইনস্ট্রো’ক করে বাম চোখের দৃষ্টি হা’রানোর পাশাপাশি কথাবার্তাও খুব একটা গু’ছিয়ে বলতে পারেন না তিনি। কখনও কখনও দুপুরেই ভুলে যান সকালে কি বলেছেন।

 

পরিবার ও প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য তাই সরকারি ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিয়ে খাদ্য চান তিনি। আর এতেই খড়গ নামে তার ওপর। দুই বাড়ি দূরে থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী উপজেলা পরিষদ থেকে তদ’ন্তে আসা লোকদের বলে দিয়েছেন ফরিদ উদ্দিন একজন ব্যবসায়ী এবং চারতলা বাড়ির মালিক। এই তথ্য পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাজির হয়ে ১শ দরিদ্রকে ত্রাণ দিতে বলেছিলেন ফরিদ উদ্দিনকে। এই ত্রাণের টাকা যোগাড় করতে নিজের আর ভাইয়ের স্ত্রীর স্বর্ণালংকার ব’ন্ধক দিতে হয়েছে তাকে। কষ্টে সু’ই’সাই’ডে’র চেষ্টাও করেছেন তিনি।

 

রোববার (২৩ মে) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের দেওভোগ নাগবাড়ী এলাকায় ঘটা এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১শ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী কিনতে যত টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকা তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ বাংলানিউজকে জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামীম ব্যাপারীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে বুধবারের মধ্যে তদ’ন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ফরিদের খরচ হওয়া প্রায় ৭৫ হাজার টাকা তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরিদ উদ্দিন ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিয়ে খাদ্যসামগ্রী চাওয়ার ছলে দু’ষ্টুমি করেছেন বলে যে সংবাদ ছ’ড়িয়ে পড়েছিল, বাস্তব চিত্র তার পুরোপুরি উল্টো।

 

বৃহস্পতিবার (২০ মে) ইউএনওর নির্দেশ মতে ১শ দরিদ্রকে খাদ্য সহায়তা দিতে ফরিদ উদ্দিন রাজি হওয়ায় শনিবার বিকেলে সেই ত্রাণ দিতে এসেছিলেন ইউএনও আরিফা জহুরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরাও। কিন্তু অ’সুস্থ ফরিদ উদ্দিন, তার স্ত্রী আর বুদ্ধি প্রতিব’ন্ধী ছেলেকে দেখে তারাও ‘হকচকিয়ে’ যান। আশ্বাস দিয়ে যান, বিষয়টি তারা খুব ভালোভাবেই দেখবেন এবং ফরিদ উদ্দিনের ব্যাপারে ভ্রা’ন্ত তথ্য দেওয়া স্থানীয় ইউপি সদস্যের ব্যাপারেও প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেবেন।

 

শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফরিদ উদ্দিনের বাড়ির সামনের রাস্তায় শত শত মানুষ ভি’ড় করেছেন। কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে তার লোকজন ত্রাণ নিতে আসা মানুষদের লাইনে দাঁড় ক’রানোর কাজে ব্যস্ত। ইউএনওর আসার কথা আছে বলে সেখানে চেয়ার টেবিলও সাজিয়ে রেখেছেন আইয়ুব আলী। অবস্থা দেখে মনে হবে ত্রাণ সহায়তা তিনিই দিচ্ছেন। কিন্তু ওই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: