শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় দুধ দিয়ে পা ধুয়ে পীরের চুমু খাচ্ছেন নারীরা

প্রকাশিতঃ সোমবার, ৩১ মে, ২০২১, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত কোনোটারই প্রচলিত নিয়ম সঠিক নয়! ভু’ল আছে মসজিদে। তাই অনুসারীদের আসতে হবে নিজের বাঁশ বাগানের দরবারে। সেখানেই নামাজ আদায় করতে হবে। এমনকি পালন করতে হবে হজও। শুধু তাই নয়, দুধ দিয়ে ক’থিত এ পরীরে পা ধুয়ে চু’মু খেতে হবে নারী-পুরুষদের। এমনই এক ভ’ণ্ড পরী’রের স’ন্ধান মিলেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। কথিত এ পীরের নাম শামীম। কয়েকদিন আগেই এক মুসলিম কিশোরকে ঢাকঢোল বাজিয়ে ‘হরে শামীম’ উলু’ধ্ব’নি দিয়ে দা’ফন করেছেন ভ’ণ্ড এ পীর।

 

অবিলম্বে এসব ইসলামবি’রো’ধী কর্মকা’ণ্ড বন্ধের পাশাপাশি ভ’ণ্ড শামীমের বি’চার ও দৃ’ষ্টান্তমূ’লক শা’স্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এমপি, ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার মানুষ। দৌলতপুরে শামীমের নানা অ’স্বাভাবিক-অ’সংগতিপূর্ণ কাজের ভিডিও আর ছবি ফেসবুকে এখন ভা’ইরা’ল। তবু ব’হাল তবিয়তে নিজের মনগড়া ধ’র্ম চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের শামীম। অ’সংগতিপূর্ণ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় সৃষ্টি হওয়া চাঞ্চল্য’কর পরিস্থিতির অনুস’ন্ধানে যান চিত্রসাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও রিপোর্টার আহমেদ রাজু। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে বা’ধার শি’কার হন তারা। বি’ভ্রা’ন্তিকর রটনা আর অ’সংগ’তিপূর্ণ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় সৃ’ষ্টি হওয়া চাঞ্চ’ল্যকর প’রিস্থি’তির অনুস’ন্ধানে যান চিত্রসাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও রিপোর্টার সিয়াম আবদুল্লাহ। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে বা’ধার শি’কার হন তারা।

 

কথিত গু’রুদেব শামীমের ডেরায় ঢুকতে শুরুতেই জুতা খুলে খালি পায়ে হেঁ’টে যেতে হয় দুইশ গজের পথ। সাংবাদিকদের প্রবেশ দেখে মিনিট খা’নেকের মধ্যে হাজির হন পাঁচ থেকে সাতজন তরুণ এবং আট-দশজন নারী। অনুমতি সাপেক্ষে নিজের জীবনযাপনের ব্যা’খ্যা চাওয়া হয় শামীমের কাছে। তখনই তিনি জানিয়ে দিলেন, বিশ্বব্যাপী চলা ইসলাম ভু’ল নিয়মে চলছে, তিনি যে দর্শনচর্চায় জীবনযাপন করছেন সেটিই ইসলামের সঠিক রূপ। যে রূপে সন্ধ্যা হলে নারী-পুরুষের নাচ-গান (স্থানীয়দের দা’বি অ’শ্লী’ল নাচ-গান), ঢাকঢোল বাজিয়ে দা’ফন, হরে শামীম উলুধ্বনি, শামীমের পায়ে সি’জদা’হ, দু’ধ দিয়ে পা ধুয়ে ভ’ক্তি চলে। পক্ষান্তরে মুসলমানদের প্রচলিত ধর্মীয় কানুন আর কোরআনের নির্দেশকে সরাসরি ভু’ল বলে দা’বি করছেন কথিত এ পীর।

 

আলাপচারিতা শেষে এলাকাবাসীর বক্তব্য নেয়ার সময় শামীমের ডেরায় চিত্রসাংবাদিক হাবিবের ওপর হঠাৎ চ’ড়াও হন এক তরুণ। এ সময় সংবাদকর্মীরা পরিচয় জানতে চাইলে দ্রুত স’টকে পড়েন তিনি। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর সার্বক্ষণিক ক’ড়া নজর রাখেন আট-দশজন তরুণ। গু’রুদেব শামীমের জীবনযাপন সম্পর্কে স্থানীয়রা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিতে শুরু করলে চ’ড়াও হন ওই তরুণরা। পরে ক্যামেরা দেখে স’টকে পড়নে তারা।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূ’তিতে আ’ঘা’ত হানা’র মতো ভিডিও এবং ছবি ভা’ইরা’ল হলে এলাকায় তীব্র প্রতি’ক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বি’ক্ষু’ব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। এরপর এক সন্ধ্যায় ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকায় নিজেদের লোকজন নিয়ে শোডাউন দেন শামীম। মুঠোফোনে ধারণ করা দুই মিনিট এক সেকেন্ডের ভি’ডি’ওটিতে দেখা যায়, ভ’ণ্ড শামীম আয়েশি ভ’ঙ্গি’তে ফুলের মা’লা গলায় দিয়ে চেয়ারে বসে আছেন। চারদিক থেকে তাকে ঘিরে রেখে নারী-পুরুষরা নেচে-গেয়ে ‘হরে হরে, হরে হরে, হরে শামীম, হরে শামীম’ বলে সবাই চিৎকার করছেন। একটি বড় গামলায় দুই পা দিয়ে রেখেছেন শামীম। আর ভ’ক্তরা দুধ দিয়ে তার পা ধুয়ে দিচ্ছেন, কেউবা চু’মু খাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার হা’মাগু’ড়ি দিয়ে পায়ে মাথা ঠু’কে তাকে সিজদা করছেন।

 

এর আগে ১৬ মে রাতে ক্যা’ন্সা’রে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যান পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মহাসিন আলীর কিশোর ছেলে আঁখি। মহাসিন আলী কথিত ভ’ণ্ড পীর শামীমের অনুসা’রী হওয়ায় ছেলের লা’শ তার হাতে তুলে দেন। ওইদিন রাতে অনুসারীদের নিয়ে ঢা’কঢো’ল পি’টিয়ে নেচে-গেয়ে আঁখিকে দা’ফন করেন শামীম। সংশ্লিষ্ট এলাকার মুসলিম ও ইসলাম ধর্ম প্রসঙ্গে জানাশোনা ভালো এমন ব্যক্তিরা ঘুরছেন উপজেলা প্রশাসন আর দৌলতপুর পুলিশের দ্বারে দ্বারে। তবে এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে কোনো বক্ত’ব্য দিতে রাজি নন দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন। নেচে-গেয়ে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে দা’ফন করা থেকে শুরু করে একের পর এক ইসলামবিরো’ধী’ কর্মকা’ণ্ডের কারণে ক্ষো’ভে ফুঁ’সে উঠেছেন ইসলামপুর গ্রামের মানুষ। তার কর্মকা’ণ্ড নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে স’মালো’চনার ঝড় উঠেছে।

 

স্থানীয়রা জানায়, শামীমের ভ’ক্ত-অনুসারীদের বেশিরভাগই অল্প বয়সী তরুণ-তরুণী। শামীম নিজে এবং তার ঘনি’ষ্ঠ কয়েকজন অনুসারী অ’শিক্ষিত এবং অ’ল্প শিক্ষিত মানুষজনকে মগজ ধো’লা’ই করে শিষ্যত্ব লা’ভে বাধ্য করেন। প্রায় দুই বছর ধরে তার আ’স্তানায় ইসলামবি’রো’ধী ক’র্মকা’ণ্ড চললেও মূলত ১৬ মে আাঁখি নামের কিশোরের লা’শ ঢোল-তবলা বাজিয়ে দা’ফ’ন করার পর থেকে শামীম সবার আ’লোচনায় চলে আসেন। কথির পীর শামীমের পুরো নাম শামীম রেজা। তিনি একই এলাকার জেসের মাস্টারের ছেলে। তার বড় ভাই শান্টুও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। শামীম ছিলেন পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৮৪ সালে ফিলিপনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। কুমারখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ভেড়ামারা কলেজ থেকে বিকম পাস করে পরবর্তীতে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এমকম পাস করেন।

 

পড়াশোনা শেষ করে ঢাকার জিনজিরা এলাকায় একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন শামীম রেজা। পরবর্তীতে ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের গোলাম-এ-বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর মুরিদ হন এবং খাদেম হিসেবে সেখানে থাকতে শুরু করেন। কথিত পীর গোলাম-এ-বাবা কা’লান্দার জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর মুরিদ হওয়ার পর থেকে শামীম পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শামীমের সন্ধানে ব্য’র্থ হন। ২০০৭ সালে বিবাহব’ন্ধনে আব’দ্ধ হন শামীম। কিন্তু সে বিয়ে দুই-তিন মাসের বেশি টেকেনি। প্রায় বছর দুয়েক আগেই হঠাৎ শামীম নিজ গ্রাম ইসলামপুর ফিরে আসেন এবং নিজ বাড়িতেই আ’স্তা’না গড়ে তোলেন।

 

এ প্রসঙ্গে শামীমের ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান (সান্টু মাস্টার) বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তাকে বি’চা’রের আওতায় নেয়া উচিত। তার কর্মকা’ণ্ডে এলাকার মানুষ অতি’ষ্ঠ।দৌলতপুরের ইউএনও শারমিন আক্তার বলেন, শামীমের ইসলা’মবি’রো’ধী কর্মকা’ণ্ড জানার পর আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সর্ত’ক করে দিয়েছি। এ ব্যাপারে কেউ তার বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অ’ভিযো’গ দেননি। লিখিত অভিযো’গ পেলে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। দৌলতপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, শামীমের বি’রু’দ্ধে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ কোনো লিখিত অভিযো’গ করেননি। লিখিত অভি’যোগ পেলে অবশ্যই তার বি’রু’দ্ধে আই’নি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: