বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

ফ্রিল্যান্সার টুটুলের দেয়া শেষ ফেসবুক পোস্ট কাঁদাচ্ছে সবাইকে

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১, ৫:০৯ অপরাহ্ন

তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আমা’র পোস্টটি অবশ্যই পড়বেন। আমি মো. আনারুল ইস’লাম টুটুল। অ’সুস্থ থাকা অবস্থায় অনেকেই সাহায্য করেছিলেন। আমি একটু সুস্থ হওয়ার পর মনে করলাম জীবনে তো অনেক ক’ষ্ট করেছি; একটু ছে’লেমে’য়েকে সুখ দেওয়ার চেষ্টা করি। তাই নেমে পড়লাম জীবন যু’দ্ধে। কারণ আমি জানি বসে থেকে খেলে রাজার ভান্ডারও একসময় শেষ হয়ে যায়। আমি যেহেতু অ’সুস্থ সেজন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েকটি কম্পিউটার কিনে কাজ শুরু করে দিলাম। ২-৩ মাস ভালোই গেলো, শুরু হলো আবার শরীর খা’রাপ। অনেক বিনিয়োগ, অনেক ক্ষতি হলো। কোনোভাবেই সব ঠিক করতে পারছিলাম না। আমা’র ছোট মে’য়ে রুকু মনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। তার প্যান্ট ছিঁড়ে গেছে। ওর আম্মুকে বলছে সেলাই করে দাও। আমা’র স্ত্রী’’ ছেঁড়া জামা, বোরকা পরে, এগুলো দেখে কী’’ভাবে সহ্য করি।’

 

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ওরা কিছু চাওয়ার আগেই তো আমি হাজির করে দিয়েছি। যত দিন থেকে এই অনলাইন জগতে এসেছি; একটা রাত আরামে ঘুমাতে পারিনি, শুধু টেনশন আর টেনশন। লাখ লাখ টাকার বিনিয়োগ শেষ। তবু সব ঠিক করে নিতে পারতাম, কাজ জানি। কিন্তু মানুষ আমাকে প্রতা;রক ভাবতে পারে। কাকে বলবো আমা’র দুঃখের কথা। কাউকে তো পাশে পাবো না। আমি মানসিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত।’ তিনি লিখেছেন, ‘রেক্স আইটির আব্দুস সালাম পলা’শের কাছে ১৭ লাখ টাকা পাবো। আমা’র ব্যাচ নম্বর ১৬৬। পলা’শকে কয়দিন আগে সিআইডি ধরেছে। পলা’শের জন্য হাজারো পরিবার শেষ হয়ে গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকা মে’রে দিয়েছে। সকল রেক্সার ভাই যারা আমাকে চেনেন; আমা’র পরিবারের পাশে থাকবেন। আপনাদের হতভাগা টুটুল ভাইকে ক্ষমা করে দেবেন।’

 

‌আমা’র স্ত্রী’’কে কেউ দোষারোপ করবেন না উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‌’সে আমা’র কিছুই জানে না। সে আমাকে সব থেকে বেশি বিশ্বা’স করে। ওর সব টাকা-পয়সা আমাকে দিয়ে দিয়েছে। আমি কোনো সময় আমা’র কাজের বিষয়ে ওর সঙ্গে কোনো কিছু শেয়ার করি না। আমাকে সুস্থ করার জন্য একসময় ওর সব গয়না বিক্রি করে দিয়েছিলো। শুধু একটা কথা বলতো, তুমি সুস্থ হও আবার বানিয়ে দিবা। আমা’র স্ত্রী’’ অনেক সরল মানুষ। সে আমাকে অনেক ভালোবাসে। এজন্য এতো ক’ষ্ট সহ্য করে যাচ্ছে। দুই মাস ধরে সারা দিন কাজ করে, দোয়া ও কালিমা পড়ে, আমল করে, রোজা থাকছে। আবার রাতে তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে। শুধু আমা’র জন্য এত ক’ষ্ট করছে। আমি ওর ক’ষ্ট আর দেখতে পারছি না। সব থেকে ভালো স্ত্রী’’ আল্লাহ দিয়েছেন, আমি তার যোগ্য না। তার কথামতো চললে আজ আমা’র আ;ত্ম;হ;ত্যা করতে হতো না। তাই নিজেই নিজেকে শা’স্তি দিচ্ছি।

 

সন্তানদের কথা উল্লেখ করে টুটুল আরও লিখেছেন, ‌’রুবি, টুম্পা, নাফিস, রুকু তোম’রা আমা’র জান গো। আমাকে মাফ করে দিও। আমি অনেক চেষ্টা করলাম। কোনোভাবেই কিছু করতে পারছি না। অনলাইন জগতে কেউ কাউকে হেল্প করতে চায় না। অনেক চেষ্টা করলাম বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু পারলাম না। কোনোভাবেই কাজ হচ্ছে না। আমি বেঁচে থাকলে আরও ঋণ বেড়ে যাবে। তার থেকে আমি চলে যাই। তিনি আরও লিখেছেন, ‘সাদীপ ভাই আমা’র, নাফিস, রুকু, টুম্পাকে দেখে রেখো। কখনও ধমক দিয়ে কথা বলিও না। ওরা ক’ষ্ট পাবে, মনে হবে আব্বু নেই; তাই এমন করছে। দীপ ভাই আমা’র বুঝতে দিও না ওদের আব্বু নেই। আমি বাড়িতে থাকলে তোমাকে সব কথা বলতাম। অনেকবার গেছি; তোমাকে সব বলবো ভেবে। কিন্তু পারিনি। ভাই মাটি দিতে তাড়াহুড়ো করিও না। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীসহ দেশের অনেক ভাইবোন আছে। যারা আমাকে অনেক ভালোবাসে। তাদের দেখার সুযোগ দিও।’

 

টুটুল লিখেছেন, ‌’বড় আব্বা, বড় মা আপনারা- আমা’র স্ত্রী’’ ও ছে’লে মে’য়েদের দেখে রাখবেন। বড় আব্বা, বড় মা, আমা’র তো মা-বাবা নেই। আমি ছোটবেলা থেকেই আপনাদের বাবা-মা জানি। এই কয়েকদিন অনেকবার বাড়িতে গেছি। এজন্য মনে করেছিলাম সব বলবো। যে আমি অনেক বিপদে আছি। কিন্তু যদি পাশে কাউকে পাইনি। যারা আত্মহ’ত্যা করে তারা নিজেকে একবার খু’ন করে ফেলার আগে বহুবার নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে; কেউ সেটা বুঝতে পারে না।’


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: