বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

নিজের বউ রেখে অন্যের বউ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পুলিশ কনস্টেবল

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

পর’কী’য়ার কারণে নিজ স্ত্রীকে ‘নি”র্যা’ত’ন করে শিশু সন্তানদের ফেলে প’রের স্ত্রীকে নিয়ে দেদারসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নড়াইলের এক পুলিশ কনস্টেবল। যশোরের শার্শা থানায় কর্মরত অবস্থায় পর’কী’য়া প্রেমিকার সাথে আপ’ত্তি’কর ছবি প্রদর্শনের পর যশোর ফাঁ’ড়িতে ক্লো’জ’ড করা হলেও থামেনি বর্বরতা। একদিকে শার্শা থানায় পুলিশ কনস্টেবলের হাত থেকে নিজ স্ত্রীকে ফে’রত পাবার জন্য আবেদন হতভা’গ্য স্বামীর, অন্যদিকে শিশু সন্তানসহ নিজের নিরা’প’ত্তার জন্য নড়াইলের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন হতভা’গ্য স্ত্রী মিশরী খানম। আদালতে মা’মলা করেছেন তিনি। স্বামী এবং দেবর কর্তৃক নিজ এবং পরিবারের জীবনের ঝুঁ’কি থাকায় ২ জুন নড়াইল সদর থানায় ডায়েরি করেছেন মিশরী।

 

জানা গেছে,২০০৮ সালে নড়াইল সদরের নারায়নপুর গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল মহিদুল আলমের সাথে বিয়ে হয় রতডা’ঙ্গা গ্রামের মিশরী খানমের। এই পরিবারে ১১ বছরের একটি কন্যা এবং ৬ বছরের শিশু পুত্র রয়েছে। বিয়ের পরে ভালই চলছিলো সংসার। খুলনায় ৫ বছর একসাথে বাড়িভাড়া করেও থেকেছেন এই দম্প’তি। দৃশ্যপট পাল্টে যায় যশোরের শার্শার থা’নায় থাকাকালীন। এখানে বাগআচড়া ফাঁ’ড়িতে থাকাকালীন কনস্টেবল মহিদুল সুমি খানম নামের এক নারীর সাথে প’রকী’য়া প্রে’মে জ’ড়িয়ে পড়েন। সুমির স্বামী শার্শাতে ব্র্যাকের মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত।

 

এই পরিবারে ১৪ বছরের একটি পুত্রসন্তান ও রয়েছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে স্ত্রী সুমি খানমের সাথে কনস্টেবল মহিদুলকে আ’প’ত্তি’কর অবস্থায় ধ’রে ফেলে সুমির স্বামী ইকবাল হোসেন। সেই ছবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করে মহিদুলের খ’প্পর থেকে স্ত্রী ফেরত পাবার আবেদন করেন হতভা’গ্য স্বামী। এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি কনস্টেবল মহিদুলকে বাগআ’চড়া পুলিশ ফাঁ’ড়ি থেকে ক্লো’জড করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি তার নামে বিভাগীয় মা’মলা করে যশোর পুলিশের রি’জার্ভ অফিস।

 

এ সময়ে কনস্টেবল মহিদুল তার নিজ স্ত্রী ও পরিবারের কোন খোজ খবর রাখেনি। উল্টো ২০ মার্চ মহিদুলের ভাই সোহাগ খান ভাইয়ের স্ত্রী মিশরী খানমকে ‘মা’রধো’র করে। এ ব্যাপারে কোন কথা না বলার জন্য শাসায়। ক্লো’জ’ড থাকা অবস্থায় ৪ এপ্রিল পরিবারের কথা বলে ছুটি নি’য়ে বাড়িতে আসে মহিদুল। এ সময় স্ত্রী মিশরীকে মা’রধো’র করে এবং সুমিকে বিয়ে করার জন্য কাবিননামায় স্বাক্ষরের হু’ম’কি দেয়। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য ৫ এপ্রিল মিশরী খানম নড়াইলের পুলিশ সুপারের কাছে অ’ভিযো’গ দা’য়ের করেন। পরে ৮ এপ্রিল স্বামী পুলিশ কনস্টেবল মহিদুল, তার ভাই সোহাগ খান ও প্রেমিকা সুমি খানমের নামে পারিবারিক আ’দালতে মাম’লা করেন মিশরী খানম।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইকবালের স্ত্রী সুমি খানমের বাবার বাড়ি ভারতের হাওড়া হওয়ায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্টে পার হতে গিয়ে নানা ধরনের সহায়তা করতেন কনস্টেবল মহিদুল। সেই সুবাদে ইকবাল ও তার স্ত্রী সুমির সাথে ঘ’নি’ষ্ঠতা তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে প্রে’মে রূ’প নিয়েছে। সুমির স্বামী ইকবালের অ’ভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবল মহিদুলের এই আ’চর’ণে আমি অ’ত্য’ন্ত ক্ষু’ব্ধ। আমার শিশু সন্তানটি অস’হায় হয়ে পড়েছে তার মায়ের জন্য। আমি পুলিশ মহিদুলের উপযুক্ত শা’স্তি চাই এবং আমার স্ত্রী সুমিকে ফে’রত চাই।

 

মিশরী খানম এর পিতা মো.ইকরামুল হকের অ’ভিযো’গ, মহিদুল প’রকী’য়া প্রেমিকা সুমিকে নিয়ে নড়াইলের শাহাবাদ ও আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে থাকছে। তার বি’রু’দ্ধে বিভা’গীয় মা’মলা ও ক্লো’জ’ড অবস্থায় কিভাবে এইসব করার সা’হস দেখায় আমার বোধগম্য হয় না। কনস্টেবল মহিদুল আলম আরটিভি নিউজকে বলেন, ভাই আমি একটু ব্যস্ত আছি পরে কথা বলছি। এই বলে মোবাইল কে’টে দেন।

 

এ বিষয়ে যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (শার্শা সার্কেল) জুয়েল ইমরান বলেন, কনস্টেবল মহিদুলকে এই অ’পরা’ধে পুলিশ লাই’নে ক্লো’জ’ড করা হয়। একই সাথে বিভাগীয় মাম’লা হয়েছে। সে যে ধরনের অ’পরা’ধ করেছে তাতে পার পাবে না। আশাকরি তার স্ত্রী ও পরিবার ন্যায়বি’চার পাবে। নড়াইল সদর থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর ডায়েরি প্রসঙ্গে বলেন, এটা যাচাই বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া পুলিশের বিভাগীয় মাম’লার তদন্ত সঠিক নিয়মেই চলবে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: