শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বউ শ্যালিকাকে ভারতে বিক্রি

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১, ৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বউ ও শ্যালিকাকে ভারতে বি’ক্রি করার অ’ভিযো’গ উঠেছে। কৌশলে পারিবারিক বন্ধন তৈরি করে প্র’তারকচ’ক্র তাদেরকে বি’ক্রি করে দিয়েছে। পরে ভারতে নারী ব্যবসায়ীদের খ’প্প’র থেকে পা’লাতে গিয়ে একজনের ঠাঁ’ই হয়েছে সেফহোমে, অন্যজন রয়েছেন দেশটির পুলিশ হেফাজতে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের হতদরি’দ্র পরিবারের দুই তরুণী দুই বছর আগে চাকরি নেন শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় রিদিশা ফুড এন্ড বেভারেজ নামে একটি বিস্কুট কোম্পানিতে। সম্পর্কে তারা আপন দুই বোন। চাকরির সুবাদে জৈনা বাজার এলাকায় বাবুল মার্কেটের পেছনে হাবিবুল্লাহর বাড়িতে একটি রুম ভা’ড়া নিয়ে তারা বসবাস করতেন।

 

এ সময় নারী পা’চারকা’রী দলের সদস্য সুজন (৪৫) ও মো. ইউসুফ (২২) ওই দুইবোনের স’ঙ্গে সখ্য’তা গড়ে তোলে। সুজন নিজেকে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার এবং ইউসুফ ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসি’ন্দা হিসেবে পরিচয় দেন। তারাও জৈনা বাজার এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকতো। ধীরে ধীরে ওই দু’বোনের বিশ্বাস অর্জন করে। এক সময় নারী পা’চা’রকারী ইউসুফ বড় বোনের সঙ্গে প্রে’মের সম্প’র্ক গড়ে তোলে। ছোট বোন ছাড়া পরিবারের কাউকে না জানিয়েই এ বিয়ে হয়।

 

বিয়ের পর দুই বোন পা’চারকা’রীদের হাতের মুঠো’য় চলে যায়। এরপর তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্দ’শা। বিয়ের দু’মাস পর গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের দু’বোন ভারতে পা’চা’রের শি’কার হন। নারী পা’চারকা’রী দলের সদস্য সুজন ও ইউসুফ তাদেরকে টি’কট’ক ভি’ডিও বানিয়ে ও ভালো চাকরির মাধ্যমে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে চো’রাপ’থে জীবননগর সীমা’ন্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। এরপর তিন লাখ টাকায় ভারতের রানাঘাট এলাকার নারী ব্যবসায়ী বাবলু ও রাহুলের কাছে বি’ক্রি করে দেয়। শুরু হয় তাদের য’ন্ত্র’ণাদ’গ্ধ কাহিনী।

 

তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এলাকার বিভিন্ন বাসায় ও হোটেলে রেখে দে’হব্য’বসা করানো হতো। দুই বোনকে আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হতো। নারী ব্যবসায়ীদের কথা না শুনলেই দেয়া হতো ইলেকট্রিক শ’ক। ক’ঠোর নজরদারিতে এদের রাখা হতো। পশ্চিবঙ্গে ক’রো’নার প্রার্দুভাবে ১৬ই মে থেকে ল’কডা’উন শুরু হলে তাদের ওপর নারী পা’চারকা’রীদের নজরদা’রি শি’থিল হয়। এই সুযোগে দুই বোন নারী পা’চারকারী’দের নর’ক থেকে পা’লিয়ে আসে। গত ১৭ই মে ছোট বোন হাওড়া স্টেশন এলাকায় পুলিশের হাতে আ’টক হয়। পুলিশ তাকে উ’দ্ধা’র করে কলকাতার শিয়ালদহ এলাকায় ভারতীয় সরকার পরিচালিত সেফ হোম পার্টিসিপেটরি সিসার্চ অ্যান্ড অ্যা’কশন নেটওয়ার্ক এর হাতে ন্য’স্ত করে। পার্টিসিপেটরি সিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর রায় ঘটনার স’ত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়েটি এখন ভালো আছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

 

এদিকে গত ২১শে মে ভারতের বো’ঝাপড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তর’ক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর হাতে গ্রে’প্তা’র হন। বিএসএফ তাকে ভারতীয় পুলিশের হাতে তু’লে দেয়। সংবাদটি ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এদিকে গত তিন মাস ধরে দুই তরুণী নি’খোঁজ হওয়ার পর তাদের, পিতামাতা পাগ’লপ্রায়। তাদের পিতা জানান, মাঝে মধ্যেই ভারতীয় নম্বর থেকে কল করতো ওই দলের লোকজন।

 

দুই লাখ টাকা দা’বি করতো আমাদের কাছে। বলতো টাকা দিলে মেয়েদের দেশে ফেরত পাঠাবে। অন্যথায় দুবাই বি’ক্রি করারও হু’ম’কি দিতো। মাঝে মধ্যে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতো। আর হু’ম’কি দিতো বাংলাদেশের কাউকে না জানাতে। জানালে খু’ন করে লা’শ নদীতে ভাসিয়ে দেবে বলেও হু’ম’কি দিতো। অনেকদিন যোগাযোগ না থাকায় গত ২৮শে মে শ্রীপুর থানায় এ বিষয়ে জিডি করতে গেলেও তা নেয়নি পুলিশ। শ্রীপুর থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: