বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

নৌকার সমর্থন না করায় ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে ওঠবস

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ৮:২১ পূর্বাহ্ন

বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর প’ক্ষে কাজ না করায় ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে কান ধরে ও’ঠব’স করানো হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভি’ডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছ’ড়িয়ে পড়লে ক্ষো’ভে ফে’টে পড়ে আমতলীর সচে’তন মানুষ। নির্বাচনের পরের দিন মঙ্গলবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ওই বৃদ্ধের ঘর ভা’ঙচু’রের পাশাপাশি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লু’টসহ তার এক ছেলের স্ত্রী ও এক ভাইয়ের স্ত্রীকেও ‘মা’রধ’র করা হয়।

 

এ ঘটনায় থানায় লি’খিত অ’ভিযো’গ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৬৫)। তিনি আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের পাতাকাটা এলাকার বাসি’ন্দা। কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, গত ২১ জুন সোমবার আমাদের ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহসিন হাওলাদারকে সমর্থন করি। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প’রাজি’ত হন। আর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান খান বাদল।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করার পরের দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আক্তারুজ্জামান খান বাদলের কর্মী ও সমর্থক আমার প্রতিবেশী কাইউম হাওলাদারের ছেলে রাশেদুল, আমজাদ হাওলাদারের ছেলে মনিরুল, সোহেলের ছেলে মিরাজ এবং নাসিরের ছেলে ইলিয়াসসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন লোক আমাকে ঘর থেকে টে’নে’হিঁ’চ’ড়ে বাহিরে নিয়ে যায়। এরপর তারা আমার ভাইয়ের বউ ও পুত্রবধূসহ নাতি-নাতনিদের সামনে আমাকে মা’রধ’র করে কান ধ’রিয়ে ও’ঠবস করায়। এতে আমার ছেলে বউ এবং ভাইয়ের বউ বা’ধা দিলে তাদেরকেও মা’রধ’র করে তারা। এসময় তার ঘরের শো’কেস ও আলমিরা ভে’ঙে ১৮ হাজার টাকাসহ নাতনির বিয়ের জন্য রাখা লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়।

 

কুদ্দুস হাওলাদার কা’ন্না জ’ড়ি’ত কন্ঠে বলেন, আমার ৬৫ বছর বয়স। গরীব হলেও তো আমার সম্মান আছে। এই বয়সে ভাইর বউ ও ছেলে বউসহ নাতি-নাতনিদের সামনে আমাকে ‘মা’রধ’র করে কান ধরে ও’ঠব’স করা’লো ওরা। আমার এখন ল’জ্জায় ম’রে যেতে ইচ্ছে করে। কার কাছে বি’চার দিব? কে বি’চার করবে এ ঘটনার? কিছুই বুঝতে পারছিনা। এমন ঘটনার আগে আমার ম’র’ণ হওয়াই ভাল ছিল। এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মহসিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করবে এবং জয়-পরাজয় থাকবে। তাই বলে পরাজিত প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের এভাবে লা’ঞ্ছি’ত করবে, মা’রধ’র করবে, বাড়িঘর ভা’ঙচু’র করবে, এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না। বৃদ্ধ কুদ্দুস হাওলাদারের সঙ্গে যা ঘটেছে তা নিঃ’স’ন্দে’হে চরম ল’জ্জাজ’নক এবং ন্যা’ক্কার’জ’নক ঘটনা। আমি এ ঘটনার বি’চার চাই।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আখতারুজ্জামান খান বাদল নিজের কর্মী ও সমর্থকদের দিয়ে প্রতিদ্ব’ন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী ও সম’র্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হা”মলা এবং ভা’ঙচু’র শুরু করেছেন। এ বিষয়ে আমি আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অ’বহি’ত করলেও তারা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে চাওড়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান বাদল বলেন, আমার ও আমার কর্মী-সমর্থকদের বি’রু’দ্ধে যে অ’ভিযো’গ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভু’য়া ও’ ভি’ত্তি’হী’ন। আমার কর্মীরা কোন অ’ন্যা’য় ও অ’পক’র্মে’র সঙ্গে জ’ড়িত নয়। নির্বাচনে হেরে গিয়ে অ্যাডভোকেট মহসিন হাওলাদার আমার কর্মী ও সম’র্থকদের ফাঁ’সা’নোর চেষ্টা করছেন।

 

কুদ্দুস হাওলাদারের লি’খিত অ’ভিযো’গের বিষয়ে জানতে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে আমতলী থানার ডিউটি অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বলেন, বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে ও’ঠব’স করার ঘটনা এবং এ ঘটনায় লিখিত অ’ভিযো’গের বিষয়ে আমি অবগত নই। তিনি বলেন, চাওড়া ইউনিয়নের পরিস্থিতি শা’ন্ত আছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আছে। এরপরও যদি কোথাও কোনো ধরনের অ’প্রী’তিকর ঘটনা ঘটে তাহলে অভি’যোগ পেলে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: