শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২৬ অপরাহ্ন

উচ্চ বেতনে কথা বলে তরুণীদের দেহ ব্যবসায় পাচার করত নদী

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ৪:২৯ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক না’রীপা’চার চক্রের অন্যতম সদস্য নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত (২৮) ১০টি নাম ব্যবহার করে তিন দেশে (ভারত, মালয়েশিয়া ও দুবাই) না’রী পা’চার করতেন। না’রী পা’চারে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। কখনও জলি, কখনও নুরজাহান, কখনওবা নদী- এভাবে পা’চারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতেন ভিন্ন ভিন্ন নাম। ১৫ বছর ধ’রে মানবপা’চারে সরাসরি জ’ড়িত নদী। ভারত, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশে না’রী পা’চারের কাজে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন তিনি। জানেন ৫টি ভাষা।

 

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও ডিসি কার্যালয়ে এসব ত’থ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ। সোমবার নড়াইল ও যশোর সী’মান্ত থেকে নদী আক্তার ইতিসহ মানবপা’চার চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রে’প্তার করেছে তেজগাঁও বিভাগের হাতিরঝিল থা’না পু’লিশ। গ্রে’প্তার অন্যরা হলেন- আল আমিন হোসেন (২৮), আমিরুল ইসলাম (৩০), তরিকুল ইসলাম (২৬), বিনাশ শিকদার (৩৩) সাইফুল ইসলাম (২৮) ও পলক মন্ডল (২৬)। সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি তরুণীর ঘ’টনায় টিকটক হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন আ’টকের পর উঠে আসে নদীর নাম।

 

মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘পা’চারের জন্য আনা মে’য়েদের যশোর সী’মান্তের বিভিন্ন বাড়িতে রাখা হতো। এরপর তাদের ভারতে পা’চার করত চক্রটি। প্রত্যেক মে’য়ের জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এক হাজার টাকা করে নেয়। পা’চারকালে কোনো মে’য়ে বিজিবির কাছে আ’টক হলে সেই ইউপি সদস্য তাকে আত্মীয় প’রিচয় দিয়ে ছা’ড়িয়ে নিয়ে আসতো। নদী আক্তার ইতি না’রী পা’চার ও মা’দক ব্যবসায় জ’ড়িত। তার নামে যশোরের শার্শা থা’নায় দুটি মা’দক মা’মলা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শীর্ষ স’ন্ত্রাসী রাজীব হোসেনের স’ঙ্গে নদীর ২০০৫ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের ১০ বছর পর ব’ন্দুকযু’দ্ধে নিহ’ত হয় রাজীব। এরপর থেকেই নদী পা’চার চক্রের স’ঙ্গে জ’ড়িয়ে পড়েন। পা’চার করা নারীদের কাছে তিনি নদী হিসেবে পরিচয় দিলেও ভারতে তাকে সবাই ইতি নামে চেনে।

 

বাংলাদেশি পাসপোর্টে তার নাম নুর জাহান থাকলেও, ভারতীয় আধার কার্ডে তার নাম জয়া আক্তার জান্নাত, সাতক্ষীরা সী’মান্তে তার নাম জলি, যশোর সী’মান্তে তিনি প্রীতি নামে পরিচিত।’ ডিসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘গ্রে’প্তার আল আমিন হোসেন ২০২০ সালে না’রী পা’চার করতে গিয়ে বিএসএফ ক’র্তৃক গু’লিবি’দ্ধ হয়। সে পাচা’রের উদ্দেশে আনা মে’য়েদের তার বাড়িতে রেখে সুযোগমতো ভারতে পাঠাত। গ্রে’প্তার সাইফুল ইসলামের শর্শার পাঁচভুলট বাজারে মোবাইল রিচার্জ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা আছে। মানব পা’চারে জ’ড়িত ইস্রাফিল হোসেন খোকন, আব্দুল হাই, সবুজ, আল আমিন ও একজন ইউপি সদস্য তার মাধ্যমে মা’নবপা’চার থেকে অর্জিত অর্থ বিকাশে লেনদেন করে।

 

পু’লিশের উপস্থিতি টের পেলে সে মানবপা’চারে জ’ড়িত ব্যক্তিদের স’তর্ক করে। বিকাশ ট্রানজেকশনে ব্যবহৃত মোবাইলটি জ’ব্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গ্রে’প্তার পলক মন্ডল যশোরের মনিরামপুর ঢাকুরিয়া স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর ভারতের নলকড়া গ্রামে নানা বাড়িতে যায়। পঞ্চগ্রাম স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে বিএএমএস (ব্যাচালর অফ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) ডিগ্রি নিয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শুরু করে। বেনাপোলের ইস্রাফিল হোসেন খোকন, ভারতে অবস্থানকারী বকুল ওরফে খোকন, তাসলিমা ওরফে বিউটি ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তার ঘ’নিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

 

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নিতে আসা গ্রামের দরিদ্র মে’য়েদের ব্যাঙ্গালুরুতে তাসলিমা ওরফে বিউটি নামে একজনের কাছে পাঠানোর মাধ্যমে না’রী পা’চারের হাতেখড়ি। পরে বাংলাদেশ থেকে পাচারকরা মে’য়েদের আধার কার্ড প্রস্তুত করে দেওয়ার পাশাপাশি সেফ হোমে অবস্থান এবং ব্যাঙ্গালুরে নির্ধারিত স্থানে পাঠানোর দায়িত্ব নেয়।’ মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘পলক মন্ডল ভারতীয় আধার কার্ড ও ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত আইডি কার্ডধারী। সে উত্তর প্রদেশের গোরাক্ষপুরের বড়ালগঞ্জ থা’নার নেওয়াদা গ্রামেও থেকেছে। তার ভারতীয় আধার কার্ড, সেদেশের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আইডি কার্ড, ভারতীয় আয়কর বিভাগ দেওয়া আইডি কার্ড, ভারতীয় সিম কার্ড ও একজন ভিকটিমের আধার কার্ড জ’ব্দ করা হয়েছে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রে’প্তার বিনাশ সিকদার নড়াইলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছে। সে বেনাপোলে বাসা ভাড়া নিয়ে পাসপোর্ট ফরম পূরণের কাজ করত। তার স্ত্রী সোনালী সিকদার ভারতীয় নাগরিক। বেনাপোলে পাসপোর্ট ফরম পূরণের কাজ করতে গিয়ে ইস্রাফিল হোসেন খোকন, আব্দুল হাই সবুজসহ মানব পা’চারকারী চ’ক্রের আরও কয়েকজনের স’ঙ্গে প’রিচয় হয়। এর সূত্রধ’রে মা’নব পা’চারের জ’ড়িয়ে পড়ে সে। ভারতে উচ্চ বেতনে চাকরি বা প্র’লোভন দেখিয়ে আনা না’রীদের ইস্রাফিল হোসেন খোকন, আল আমিন, তরিকুল, আমিরুলসহ আরও কয়েকজনের মাধ্যমে সীমা’ন্ত পার করে ভারতীয় দা’লালদের কাছে পৌঁছে দিত বিনাশ।

 

তার কাছ থেকে বাংলাদেশি জাতীয় প’রিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও দুটি মোবাইল জ’ব্দ করা হয়েছে।’ টিকটক হৃদয়ের স’ঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও ভারতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর স’ঙ্গে নদীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে এই পু’লিশ কর্মক’র্তা বলেন, ‘টিকটক হৃদয়ের স’ঙ্গে নদীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই ওই ভিডিওর স’ঙ্গেও নদীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

 


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: