শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৬:০১ অপরাহ্ন

১৪ বছরের মেয়ে নিয়ে ৩ জনের টানাটানি, শেষমেশ বিয়ে করলেন চেয়ারম্যান

প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১, ৭:২৪ অপরাহ্ন

সা’লি’শ করতে গিয়ে পছন্দ হওয়ায় অন্যের কিশোরী স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। বৃ’দ্ধ বয়সে অন্যের কিশোরী স্ত্রীকে বিয়ের ঘটনা ব্যা’পক আলো’চিত হয়েছে। ভা’ইরা’ল হয়েছে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এই ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে এক ছেলে স্থানীয় সাবেক এক এমপির শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন এবং মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের রমজান (২৫) নামের এক যুবকের সাথে একই ইউনিয়নের চুনারপুল এলাকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নাজমিন আক্তার ওরফে নছিমনের প্রেমের সম্প’র্ক ছিল। গত তিন মাস আগে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের তাতেরকাঠি গ্রামের জনৈক সোহেল আকনের স’ঙ্গে তার বিয়ে হয়। নছিমনের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, বিয়ের সময় সোহেল আকনের কাছে রমজানের সঙ্গে নছিমনের প্রেমের সম্প’র্ক গো’পন রাখেন তিনি। বিয়ের পরে বিষয়টি জানতে পারেন সোহেল আকন। এ নিয়ে নছিমনের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সোহেলকে তাকে তা’লক দেন।

 

রমজানের বড় ভাই আলী ইমরান বলেন, নছিমনের সঙ্গে সোহেল আকনের তা’লাক হওয়ার পরে রমজান ও নছিমনের বিয়ে হয়। কনের বয়স কম হওয়ায় বিয়ের কাবিন হয়নি। কয়েক দিন আগে নছিমন তাদের বাড়িতে গিয়ে উঠেন। কিন্তু এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি নছিমনের বাবা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পরিবারে মধ্যে টানাপোড়ন সৃষ্টি হলে ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানানো হয়। তিনি শুক্রবার সা’লি’শ বৈঠক করতে সম্ম’তি হন। সেই অনুযায়ী ওই দিন সকালে উ’ভয় পরিবারের লোকজন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের আয়লা বাজারস্থ বাসায় যাই। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে চেয়ারম্যান নিজেই নছিমনকে বিয়ের আ’গ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর সা’লিস বৈঠক প’ণ্ড হয়ে যায়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের ঘ’নি’ষ্ঠ কয়েক ব্যক্তি জানান, শুক্রবার বাদজুমা চেয়ারম্যানের বাসভবনে বসেই ৫ লাখ টাকা কা’বিনে নছিমনের বিয়ে হয়। স্থানীয় আবু সাদেক নামের এক ব্যক্তি বিয়ে পড়ান। বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন মাওলানা আয়ুব কাজী। বিয়ের সময় বরের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন স্থানীয় নজরুল ইসলাম ও ছালাম হাওলাদার। বরের উকিল ছিলেন পলাশ এবং কনে প’ক্ষে উকিল ছিলেন সুমন হাওলাদার।

 

বিয়ের কাবিন নামায় কনের বয়স উল্লেখ করা হয় ১১ এপ্রিল ২০০৩ সাল। অর্থাৎ ১৮ বছর ২ মাস ১৫ দিন বছর। নছিমন কনকদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে প’ড়াশুনা করতো। জন্ম সনদে নছিমনের বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ১১ এপ্রিল ২০০৭ সাল। সে অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর ২ মাস ১৫ দিন। অবশ্য নছিমনের বাবা নজরুল ইসলাম কা’বিন নামায় উল্লেখিত বয়সই তার মেয়ের সঠিক বয়স বলে দা’বি করেছেন।

 

কাবিননামায় চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বয়স উল্লেখ করা হয় ১ ডিসেম্বর ১৯৬৮। সে অনুযায়ী চেয়ারম্যানের বয়স ৫২ বছর ৭ মাস ২৫ দিন। কিন্তু বাস্তবে তায় বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি বলে। শাহিন হাওলাদার ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগেও তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে উপজেলায় ব্যাপক আ’লোড়’ন সৃষ্টি করেছেন। ভা’ইরা’ল হয়েছেন ফেসবুকে। এ ব্যাপারে শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়েটিকে দেখে আমার পছন্দ হওয়ায় তাকে বিয়ে করেছেন। এ ছাড়া আমার বিয়ে প্রয়োজন ছিল।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: