শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

আমার বাবা আর বাব্বা, বাব্বা বলে ডাকবে না: সন্তান হারা সুজন

প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১, ৯:১৫ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর মগবাজারে বি’স্ফোরণের ঘটনায় মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত জনে। ঢাকা মহানগর পু’লিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইস’লাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে আম’রা জেনেছি, এখানে যে শর্মা হাউজ ছিল। মূলত সেখান থেকেই বি’স্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে সম্ভবত গ্যাস জমেছিল এই গ্যাস বি’স্ফোরণের কারণে আশেপাশের সাতটি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পথে থাকা দুটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আম’রা সাতজন মা’রা গেছে বলে খবর পেয়েছি।’

 

এর মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনজনের মৃ’ত্যু হয়েছে। ১২ জন আ’হত অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল। এদিকে এই বি’স্ফোরণে ৯ মাসের শি’শু সন্তান হারিয়েছেন সুজন। সন্তানকে হারিয়ে কা’ন্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। চি’ৎকার করছিলেন আর বলছিলেন,‘আমা’র বাবা আর বা-ব্বা, বা-ব্বা বলে ডাকবে না’ বি’স্ফোরণে ঘটনায় তার ৯ মাসের শি’শু সুবহানা ঘটনাস্থলেই মা’রা যায়। আর স্ত্রী’ জান্নাতকে (২৩) মুমূর্ষু অবস্থায় উ’দ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতা’লের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে তিনিও মা’রা যান। ঢামেক হাসপাতা’লের জরুরি বিভাগের সামনে দিশেহারা সুজনের কা’ন্না যেন থামানো শক্তি নেই কারও।

 

কা’ন্না জ’ড়িত কণ্ঠে সুজন বলেন, আমা’র সব শেষ হয়ে গেল, কি নিয়ে আমি বাঁচব বলতে পারেন? আমা’র বাঁ’চার মতো তো কিছু রইল না। আমি কী’ অন্যায় করেছি যে এভাবে শা’স্তি পেতে হবে! আমা’র ছোট শি’শুর কী’ দোষ ছিল? কী’ভাবে কী’ হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমা’র তো বাঁ’চার মতো কিছু রইল না। সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমা’র সোনা মনি আমা’র সঙ্গে খেলা করেছে। সবে মাত্র কথা শিখতে শুরু করছে। আমা’র বাবা আমাকে বা-ব্বা, বা-ব্বা বলে ডাকতে শিখেছে। আর কখনও আমাকে বাবা বলে ডাকবে না।

 

সুজন আরও বলেন, আমি রমনা ফার্মেসিতে চাকরি করি। আমা’র ছোট শ্যালক রাব্বি আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছে। সন্ধ্যায় মগবাজার শর্মা হাউজে গিয়েছে তারা। আমা’র স্ত্রী’ জান্নাতের আত্মীয়রা সেখানে চাকরি করে, তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেছিল। হঠাৎ বি’স্ফোরণে আমা’র জীবনের সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। আমা’র বাচ্চা ও স্ত্রী’ মা’রা গেছে। শ্যালক রাব্বি কোথায় তাও জানি না। কী’ আর রইল আমা’র বেঁচে থাকার সম্বল?

 

প্রতিবেশী রফিকুল ইস’লাম বলেন, সুজন আমাদের প্রতিবেশী। পাশাপাশি বাসায় আম’রা ভাড়া থাকি। বড় মগবাজারের ৪৮৭ নম্বর নিচতলায় স্ত্রী’ ও ৯ মাসের শি’শু সন্তান সুবহানাকে নিয়ে ভাড়া থাকে। একই সঙ্গে স্ত্রী’ ও সন্তান এভাবে চলে যাবে, এই ভ’য়াবহ দৃশ্য মেনে নেওয়া যায় না। রোববার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় মগবাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া ভ’য়াবহ বি’স্ফোরণের ঘটনায় সোমবার (২৮ জুন) সকাল পর্যন্ত ৭ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন ঢামেকসহ বিভিন্ন হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন।

 

দ’গ্ধদের মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাধীন আছেন- রাসেল (২৪), জাকির হোসেন (৪০), স্বপন (২২), নয়ন (৩২), মোতা’লেব (৪০), আবুল কালাম (৩৫), মো. পইমল হোসেন (৪০) মোস্তাফিজ (৪৫), নবী (২৮),আজাদ (৩৫) ও ইম’রান। এদের মধ্যে স্বপন নামে একজন মা’রা গেছেন। মৃ’ত অবস্থায় দুজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়েছে, তাদের দুজনের নাম-পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে গেছেন।

 

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, মগবাজারের দুর্ঘ’টনায় মোট ১৭ জনকে আমাদের এখানে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে আম’রা মৃ’ত অবস্থায় পাই। তিন জন ছিলেন দ’গ্ধ। এর মধ্যে দুজনকে আইসিইউতে, একজনকে এসডিইউতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দ’গ্ধ তিন জনের অবস্থা খুবই খা’রাপ। নাইনটি পারসেন্ট বার্ন। তাদের স’ম্পর্কে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। বাকি আ’হতরা যারা আছেন, তাদের কারও পা কা’টা গেছে, কারও পা ভেঙে গেছে।

 


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: