শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় স্বামীর মরদেহের পাশে একাকী স্ত্রীর রাত কাটল শ্মশানে

প্রকাশিতঃ রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১, ৩:১১ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভা’র ৫ নং ওয়ার্ডের হরিতলা এলাকার বাসিন্দা প্রফুল্ল কর্মকার। সত্তর বছর বয়সী প্রফুল্ল কর্মকার শনিবার রাতে করো’না আ’ক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতা’লে মৃ’ত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী’ কল্পনা কর্মকার ম’রদেহটি নিজ বাড়িতে নিতে চাইলেও বাড়ির অন্যরা করো’না আ’ক্রান্ত থাকার কারণে নিতে পারেননি। পরে শনিবার রাতেই ম’রদেহটি এ্যাম্বুলেন্সে করে মিরপুর উপজে’লার পৌর শ্মশানে নেওয়া হয়। মধ্যরাতে শ্মশানে কল্পনা কর্মকার ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। শ্মশানের গেটে তালা ঝুলছিল এবং বৃষ্টিও হচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্স থেকে দু’জন কর্মচারী শ্মশানের এক পাশে ম’রদেহটি নামিয়ে আবার ফিরে যান।

 

এসময় কল্পনা কর্মকার শ্মশান কমিটির সদস্যদের তার স্বামীর মৃ’ত্যুর বিষয়টি জানান, কিন্তু কেউ তাতে সাড়া দেয়নি। প্রফুল্ল কর্মকারের মৃ’ত্যুর পর স্ত্রী’ কল্পনা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, দুই ছে’লে, ছে’লে বউ ও নাতি করো’নায় আ’ক্রান্ত। তাই তারা শ্মশানে আসতে পারেনি। গভীর রাতে সবাই ফেরত গেলেও ম’রদেহটি ফেলে যেতে পারেননি প্রফুল্লের স্ত্রী’ কল্পনা রানী কর্মকার। রাতে বৃষ্টির গতি বাড়লে তিনি নিজেই ম’রদেহ সরিয়ে শ্মশানের পাশে গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নেন। সেখানে একাই পার করে দেন পুরো রাত। সকাল পর্যন্ত অ’পেক্ষার পরও ম’রদেহ সৎকারে শ্মশান কমিটি বা নিজ আত্মীয়-স্বজনের কেউ আসেনি।

 

মিরপুর পৌরসভা’র কাউন্সিলর জাহিদুল ইস’লাম জানান, প্রফুল্ল কর্মকারের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা করো’নায় আ’ক্রান্ত। তাই তারা ম’রদেহ সৎকারে আসতে পারেনি। তবে, হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ ম’রদেহটির সৎকারে এগিয়ে আসেনি। পরে, রবিবার সকালে উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তাকে বিষয়টি জানালে সমাহিত করার ব্যবস্থা করতে বলেন। পরে সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন মু’সলিম যুবক ম’রদেহটি মুখাগ্নি করে শ্মশানের পাশে সমাহিত করেন। মিরপুর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা লিংকন বিশ্বা’স জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পৌর মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবহিত করা হয়। তারা স্থানীয়দের দিয়ে সমাহিত করার কাজ সম্পন্ন করেছেন।

 

প্রফুল্ল কর্মকারের বড় ছে’লে আনন্দ কর্মকার জানান, তারা সবাই করো’নায় আ’ক্রান্ত। তাই শ্মশানে যেতে পারেনি। তার মা সারা রাত বাবার ম’রদেহের সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি জানতে শ্মশান কমিটির সভাপতি আনন্দ দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই পরিবারের সবাই করো’নায় আ’ক্রান্ত। এমনকি মৃ’তের স্ত্রী’ও করো’নায় আ’ক্রান্ত। এজন্য আমা’র কেউ সেখানে যেতে পারিনি। তবে, সকালে তার ছে’লে আমা’র কাছ থেকে শ্মশানের চাবি নিয়ে গেছে। এরপর আর কিছু আমি জানি না।’

 


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: