বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন আনভীরের প্রেমিকা মুনিয়া

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১, ৮:০২ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর গুলশানের অ’ভিজাত ফ্ল্যাটে মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) র’হস্যজনক মৃ’ত্যুর ঘটনায় ডাক্তারি পরীক্ষায় মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরেনসিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মুনিয়া তিন-থেকে চার সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা (গর্ভবতী) ছিলেন।কিছুদিন আগে ওই ডিএনএ প্রতিবেদন গুলশান থা’নায় আসে। হাসপাতাল ও পু’লিশের একটি সূত্রে ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত মা’র্চ মাস থেকে মা’রা যাওয়ার আগ পর্যন্ত গুলশানের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন মুনিয়া। সেখানে তার প্রে’মিক বসুন্ধ’রা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর যাতায়াত করতেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পু’লিশ।

 

স্বজনরাও জানিয়েছেন, বিয়ের প্রলো’ভন দেখিয়েই মুনিয়াকে লাখ টাকার ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন আনভীর। দীর্ঘদিন ওই তরুণীকে ভোগ করার পর দূরে সরে যেতে টাকা চু’রি ও আত্মহ’ত্যার নাট’ক সাজায় প্রতারক প্রে’মিক বসুন্ধ’রা এমডি। তবে ডাক্তারি পরীক্ষায় মুনিয়ার অন্তঃসত্ত্বা থাকার বিষয়টি উঠে আসার তথ্য সত্য কি-না, এ বিষয়ে ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মক’র্তারা কথা বলতে রাজি হননি।

 

জানতে চাইলে গুলশান থা’নার ওসি মো. আবুল হাসান বলেন, এমন কিছু তিনি এখনো পাননি। ডিএনএ রিপোর্টও আসেনি। তবে ময়নাত’দন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মুনিয়ার অন্তঃসত্ত্বা থাকার বিষয়টি ধারণা করেছেন চিকিৎসকরা। চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদনে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পু’লিশের অ’পর একটি সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল কলেজছা’ত্রী মুনিয়ার র’হস্যজনক মৃ’ত্যুর পরের দিন প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাত’দন্তের পাশাপাশি ডিএনএ ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য হাসপাতা’লে নমুনা পাঠায় গুলশান থা’না-পু’লিশ। মে মাসের প্রথম দিকে ময়নাত’দন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন ও গেল জুন মাসের মধ্যভাগে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন থা’নায় পাঠায় ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ।

 

সূত্র জানায়, ওই প্রতিবেদনে তরুণী মুনিয়া মৃ’ত্যুর আগে তিন থেকে চার সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জো’র লবিং চালায় আ’সামিপক্ষ। বসুন্ধ’রা এমডি আনভীরের প্রে’মিকা মুনিয়ার অন্তঃসত্ত্বা থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও পু’লিশ কর্মক’র্তারা ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন মা’মলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়া ও তার স্বামী মিজানুর রহমান সানি। মুনিয়ার বড় বোন ও ভগ্নিপতির অ’ভিযোগ, মুনিয়াকে হ’ত্যা ও অন্তঃসত্ত্বা থাকাসহ পুরো বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতে সব ধরনের অ’পচেষ্টায় লিপ্ত মূল আ’সামি বসুন্ধ’রা এমডি সায়েম সোবহান আনভীর।

 

এক প্রশ্নের জবাবে মুনিয়ার বোন নুসরাত ও মিজান দাবি করেন, মা’র্চ মাসের শুরু থেকে এপ্রিলের ২৬ তারিখ পর্যন্ত মুনিয়া ফ্ল্যাটে একা থাকাকালে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ও স্বামী-স্ত্রী’র মতো বসবাস করতেন প্রে’মিক আনভীর। ফলে তার দ্বারা মুনিয়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়াটাই স্বাভাবিক। ধারণা করছি, এমন নানা কারণে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে রাজি না থাকায় মুনিয়াকে মুত্যুর দিকে ঠেলে দেয় আনভীর। পরবর্তীতে হ’ত্যার পর আত্মহ’ত্যার নাট’ক সাজানো হয়। এতে আনভীরের পরিবারের লোকজনও জ’ড়িত থাকতে পারে।

 

গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি অ’ভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পু’লিশ। প্রতিমাসে এক লাখ ১০ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে মুনিয়াকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন আনভীর। এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। পর’কী’য়া ও হ’ত্যাকা’ণ্ডের অ’ভিযোগে আনভীরকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে ওঠে। ডেইলি বাংলাদেশ।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: