বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইন ব্যয় বাড়তি বোঝা

প্রকাশিতঃ সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১, ২:২৩ অপরাহ্ন

অ’বৈধ অভিবাসী হ্রাস করার লক্ষ্যে গতবছরের নভেম্বর মাস থেকে একটি প্রকল্প চালু করেছে মালয়েশিয়া। এ প্রকল্পের অধিনে অ’বৈধ অভিবাসীরা জরি’মানা প্রদান করে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করার সুযোগ পাচ্ছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আরো গতি আনতে ও সহজ করার ল’ক্ষ্যে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিশেষ বুথও স্থাপন করা হয়েছে।

 

বলা হচ্ছে পাঁচ জুলাই সোমবার থেকে অ’বৈধ অভিবাসীরা কো’ভি’ড ১’৯ এর নে’গে’টিভ ফল, পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব প্রমাণপত্র ও বিমান টিকেট নিয়ে বিমান ছাড়ার কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা আগে সরাসরি বিমান বন্দরে যেয়ে পাঁচশত রি’ঙ্গীত জরি’মানা দিয়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারবে। বিবৃতিতে দেশটির অভিবাসন দপ্তরের মহাপরিচালক খায়রুল দাযাইমি দাউদ জানিয়েছেন, অভিবাসীদের সহায়তা করতে বুথগুলি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। তবে মালয়েশিয়া থেকে সহজ শ’র্তে ফেরার অনুমতি পেলেও তৈরি হয়েছে নতুন সং’কট। এ প্রক্রিয়ায় দেশে যেতে প্রতি জনের ব্যয় হবে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা। ঢাকায় ফিরে কো’য়ারেন্টা’ইন ব্যয়কে বাড়তি বোঝা বলছেন বহু প্রবাসী।

 

এদিকে ওই একই দিনে বাংলাদেশে সিভিল এভিয়েশন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বি’ধিনি’ষেধ আরো’প করেছে। কো’ভি’ড ১’৯ সং’ক্র’মণের কম ঝূঁ’কিপূর্ণ ও উচ্চ ঝুঁ’কিপূর্ণ দেশকে আলাদাভাবে এ,বি ও সি’তে শ্রেণিকরণ করা হয়েছে। বিধিতে বলা হয়েছে বি শ্রেণিতে থাকা ১২টি দেশ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের কো’ভি’ড ১’৯ ভ্যা’ক্সি’ন দেয়া না থাকলে বা ভ্যা’ক্সিনে’র ডো’জ সম্পূর্ণ না হয়ে থাকলে ঢাকায় তাদেরকে বাধ্যতামূলক নিজ খরচে ১৪ দিন সরকার নির্ধারিত হোটেলে কো’য়ারে’ন্টাইনে থাকতে হবে। ফলে বি শ্রেণিতে থাকা মালয়েশিয়া থেকে ফেরা প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।

 

ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জামিল এক ভার্চুয়াল সা’ক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ৯৩টি হোটেলের যে কোন একটিতে ১৪ দিনের বুকিং এর প্রমাণপত্র চেকইনের সময় দেখাতে হবে। ঢাকায় আসার পর সেনাবাহিনীর সদস্য ও হোটেলের প্রতিনিধিরা কাগজ পত্র যাচাই করে হোটেলে যাওয়ার সুযোগ করে দিবে। অন্যদিকে কো’ভি’ড ১’৯ এর সং’ক্রম’ণ ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় প্রায় দেড় মাস কঠোর বি’ধিনি’ষেধ থাকায় কয়েক লাখ প্রবাসী ঘরব’ন্দি জীবন পারছেন ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অর্থ সং’কট। এই সংকটের মাঝে মালয়েশিয়া সরকারের এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে স্ব’স্তি প্রকাশ করেছে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশীরা।

 

তবে এ সুযোগ নিতে বাংলদেশীদের মাঝে তৈরি হয়েছে অ’নিশ্চিয়তা। কো’য়ারে’ন্টাইন বিধির স’মালো’চনা করে এটি বাতিল, ব্যয় ফ্রি করা এবং বিকল্প উপায় বের করার মতো দা’বি তুলছেন দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা। দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অনেকে ১৪ দিনের হোটেল কো’য়ারে’ন্টাইন ব্যয় মি’টাতে অপারকতার কথা বলছে। তাদের একজন পাহাং থেকে মনিরুল ইসলাম বলছিলেন- “কোয়ারেন্টাইন খরচের টাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব না । এক নাসেরেও বেশি সময় কাজ বন্ধ,টাকা নাই এখন কি ভাবে দেশ ফিরব! দেখি যখন কো’য়ারে’ন্টাইনে থাকতে হবে না তখন দেশে যাব আর এর মধ্যে যদি পুলিশের হাতে আ’ট’ক হই তাহলে জে’ল খা’টতে হবে।”

 

শরিফ খান বলেছেন, মালয়েশিয়া হ’য়রা’নির শি’কার না হলেও এবার আমরা বাংলাদেশে হোটেল কো’য়ারে’ন্টাইন দ্বা’রা হ’য়রা’নির শি’কার হব। তাই বিনীতভাবে অনুরো’ধ জানাচ্ছি সরকারকে প্রবাসীদের ওপরে এত বড় জু’লুম করবেন না। দ’য়াকরে তাদের প্রতি একটু সহা’নুভূতি’শীল হন। কেউ কেউ বলছেন মালয়েশিয়া থেকে ফেরা প্রবাসীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিত কো’য়ারে’ন্টাইনের শর্ত বা’তিল করা উচিত। তাদের জন্য বিকল্প কোন পথ খুঁ’জে বের করতে হবে তা না হলে অ’বৈধ প্রবাসীরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে না।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: