শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৫:১১ অপরাহ্ন

প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে, ৭ দিনেই ভেঙে গেল শ্রাবন্তীর সংসার!

প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১, ৫:২৭ অপরাহ্ন

প্রেমের সূত্র ধরে ঘর প’লাত’ক গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার বাসি’ন্দা শ্রাবন্তী রাণী মণ্ডলকে নিয়ে গেছেন তার স্বজনরা। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ভোলার দৌলতখান থানার চরখলিফা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেনের বাড়ি থেকে স্থানীয় সা’লিসের মাধ্যমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রাবন্তীকে নিয়ে যাওয়ার সময়ের কিছু ভি’ডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছ’ড়িয়ে পড়ায় নেটিজেনদের মাঝে স’মালোচ’নার ঝড় চলছে। একই সঙ্গে ঘর প’লাত’ক শ্রাবন্তী অ’পহ’রণ হয়েছেন, এমন মা’মলা দেওয়ায় সা’মা’লো’চনার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

 

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গাজীপুরের একটি ‘মাম’লায় আমরা সেই মেয়েকে উ’দ্ধা’রে সাহায্য করি।তবে ছড়িয়ে পড়া ভি’ডিওতে পুলিশের উপস্থিতি ছিল না উল্লেখ করলে তিনি জানান, সিভিল ড্রে’সে পুলিশ ছিল। অ’পর’হ’রণ মাম’লা হলেও ঘটনাটি একটি প্রে’মঘটিত ব্যাপার। কিন্তু মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় অভিভাবকের সিদ্ধান্ত আইনসি’দ্ধ। জানা গেছে, গাজীপুর উপজেলায় একটি ফ্যান কোম্পানিতে কাজ করতেন দৌলতখানের আলী হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম। সেখানে শ্রাবন্তী রাণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

 

কামরুল ইসলাম জানান, আমাদের প্রথম পরিচয় যখন হয় তখন শ্রাবন্তী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। যখন ২ বছর প্রেমের স’র্ম্প’ক চলছিল তখন জানাজানি হলে তার লেখাপড়া বন্ধ করে দেয় পরিবার। আমি চট্টগ্রামে চলে যাই। সেখানে একটি জাহাজে চাকরি নেই। সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল শ্রাবন্তি আমার সঙ্গে চলে আসেন দৌলতখানে। ১৫ এপ্রিল নোটারির মাধ্যমে ইসলামধর্ম গ্রহণ করে সে। তার নতুন নাম দেওয়া হয় জান্নাতুল ফেরদৌস। এরপরে আমরা বিয়ে করি। শুক্রবার থেকে আমরা একই ঘরে সংসার শুরু করি।

 

কামরুল ইসলাম আরও জানান, পরে জানতে পারি জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা শংকর চন্দ্র আমার নামে অ’পহ’রণ মা’মলা দিয়েছেন। পরের শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) লোকজন নিয়ে এসে তারা আমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। কামরুলের আরেক ভাই নুরুজ্জামান দাবি করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কামাল তুফানি নামে এক লোক ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে কামরুলের স্ত্রীকে তার মা-বাবার কাছে দিয়ে দেন। এ বিষয়টি থানা-পুলিশের লোক স’মাধা’ন করতে পারতো। আ’ইন যা বলে সেটিই হতো। তিনি আরও বলেন, কিন্তু একটি মেয়ে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছায়, সেদিন কামরুলের স্ত্রী বোরকা পড়েই সা’লি’সে গিয়েছিল। কিন্তু কামাল তুফানি সেই বোরকা টেনে খু’লে মেয়েকে তার পিতার কাছে দিয়ে দেন। ওইদিন কোনো পুলিশ আসেনি। যা মনে চায় সেটাই করেছেন কামাল তুফানি।

 

সামাজিক যোগা’যো’গমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভি’ডিওতে দেখা যায়, শ্রাবন্তী রাণী ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস চি’ৎকা’র করে সবাইকে বলছিল ‘সে তার মা-বাবার কাছে যাবে না। কামরুল তার স্বামী, তার সাথেই থাকবে।’ এ সময়ে স্থানীয় এক মেম্বারের পা ধরে কা’ন্না করতেও দেখা যায় তাকে। কামরুল বলেন, আমি যদি অ’পহ’রণ করতাম তাহলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে তো লুকিয়ে থাকতাম। তাকে নিয়ে সা’লি’সে যেতাম না। আমার স্ত্রী সবার সামনে চিৎ’কার করে বলেছে ‘সে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছে।’ তারপরও কেউ আমাদের সাহায্য করতে আসেনি। আমার সংসার ৭ দিনেই ভে’ঙে দিল।

 

কামরুল দাবি করেন, তার স্ত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০০৩ সালের ৩ মার্চ গাজীপুরে শংকর চন্দ্র মণ্ডল ও নিয়তি রানী মণ্ডলের ঘরে জন্ম নেন শ্রাবন্তী রাণী। এদিকে জান্নাতুলের ফিরে না যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আজ দুপুরে ‘দৌলখান থানা’ ফেসবুক অ্যাকা’উন্টে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন দৌলতখান থানার ওসি। তিনি সেখানে দাবি করেন, গাজীপুর থানায় ২৩ এপ্রিল দায়ের করা মা’ম’লার সূ’ত্র ধরে অপ’হ’রণকৃত অ’প্রাপ্তবয়স্ক শিশু শ্রাবন্তী রাণীকে (১৫) মাম’লার তদ’ন্তকারী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান উ’দ্ধা’র করে। সেই স্ট্যাটাসের নিচে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্নজনকে কমেন্ট করতে দেখা গেছে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: