শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লার মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখায় প্রধান সন্দেহভাজন শনাক্ত

প্রকাশিতঃ বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১, ২:২৪ অপরাহ্ন

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ে পূ’জাম’ণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান সন্দে’হভাজন হিসেবে শনা’ক্ত করা হয়েছে। তার নাম ইকবাল হোসেন (৩০)। তাকে গ্রে’প্তারে গত কয়েকদিন ধরে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। এছাড়া ইকবালের সহযোগী হিসেবে অন্তত চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ অপরা’ধী শনা’ক্ত করার বিষয়টি ঢা’কা’টাই’মসকে নিশ্চিত করেছেন।

 

গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজাম’ণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষো’ভ, প্রতিবাদ মিছিল হয়। এসব কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষো’ভকারীদের সংঘ’র্ষের ঘটনা ঘটে। যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই স’হিংস’তার শুরু সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের ম’ণ্ডপে কীভাবে উত্তে’জনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূ’র্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো এ নিয়ে সর্ব’ত্র আলোচনা চলছে।

 

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভ’ক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান। রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে কোনো এক সময়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান ম’ণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

 

এ ধরনেরই একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এরইমধ্যে প্র’কাশ হয়েছে। এতে দেখা যায়, কোরআন শরিফটি রাখার পর হনুমানের মূতির গ’দা কাঁ’ধে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন প্রধান অ’ভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। সিসি’টিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি রাত তখন প্রায় ৩টা। গদা কাঁ’ধে নিয়ে হেঁটে যাওয়া ইকবাল হোসেন কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

 

ইকবালের মা আমেনা বেগম জানান, তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইকবাল সবার বড়। তিনি জানান, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই নে’শা করা শুরু করে। ১০ বছর আগে সে জেলার বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করে। ওই ঘরে তার এক ছেলে রয়েছে, পাঁচ বছর আগে ইকবালের বিয়েবি’চ্ছেদ হয়। তারপর ইকবাল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে আরেকটি বিয়ে করেন। এ সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

 

আমেনা বেগম বলেন, ‘ইকবাল নে’শা করে পরিবারের সদস্যদের উপর অ’ত্যাচা’র করতো। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটেও নে’শাগ্র’স্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াত।’ ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতে ভালোবাসত জানিয়ে তার মা বলেন, ‘সে বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেত। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল।’


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: