মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়ায় ১৭ দিন ধরে মর্গে পড়ে আছে বাংলাদেশির মরদেহ!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১, ৯:৪১ পূর্বাহ্ন

দু’রারো’গ্য ব্য’ধিতে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মৃ’ত্যুর পর ১৭ দিন ধরে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালের ম’র্গে পড়ে আছে এক বাংলাদেশির ম’রদেহ। পরিবার দরিদ্র হওয়ার কারণে ম’রদেহ বাংলাদেশে নেওয়ার খরচ জোগাতে পারছে না। দেশটির মাটিতেই দাফ’নের সম্মতি দিয়েছে পরিবার।

 

জানা গেছে, জ’ন্ডিস ও লি’ভারের রো’গে গত ১৬ অক্টোবর মো. জহিরুল ইসলাম জবু নামের গাইবা’ন্ধার এই প্রবাসী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান। মৃ’ত জহিরুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকার কবির পাড়া গ্রামের মৃ’ত হোসেন আলী মুন্সির ছেলে। জহিরুল কোনো বিয়েশাদি করেনি এবং তার মা-বাবা মা’রা গেছেন আগেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে দেশে থাকা জহিরুল ইসলাম তার ভাইয়ের মেয়ে রোমানা আ’ক্তারের স’ঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের অ’সহায়’ত্বের কথা প্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, তার চাচা জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেনি, এই অবস্থায় তার ম’রদেহ দেশে আনতে গেলে প্রায় ১ লাখ টাকার প্রয়োজন, কিন্তু এত টাকা সংগ্রহ করার সাম’র্থ্য আমাদের পরিবারের নেই। মালয়েশিয়াপ্রবাসী মো. শাহাদাত হোসেন জা’গো নি’উজের এ প্রতিবেদককে জানান, ২ সপ্তাহ ধরে জহিরুল ইসলামের ম’রদেহ দেশটির ইপুহ এলাকার লাজা হাসপাতালের ম’র্গে পড়ে আছে।

 

তার কোনো সঠিক ঠিকানা বা পরিচয় যাচ্ছিল না। কারণ তার সঙ্গে যে পাসপোর্টের ফটোক’পি পাওয়া গেছে সেখানে তার বাড়ি নরসিংদীর সদরে অব’স্থিত বলে উল্লেখ থাকলেও সেই ঠিকানায় এই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায় জহিরের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। তিনি জানান, হাসপাতালে কর্মরত থাকার সুবাদে আমি জানতে পারি ইপুহ লাজা হাসপাতালের ম’র্গে একজন বাংলাদেশির ম’রদেহ পড়ে আছে যার স্বজনের কোনো খোঁ’জ নেই।

 

তখন আমি অনেক খোঁজাখুজি করে জহিরের আসল ঠিকানা উ’দ্ধার করি। তার ঠিকানা উ’দ্ধার করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি কিন্তু তাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় লা’শ মালয়েশিয়ায় দা’ফন করার সম্মতি দেয়। পরিবার ম’রদেহ না নিলে মালয়েশিয়ায় কোনো এনজিওর মাধ্যমে ম’রদেহ দাফন করা হবে। তবে জহিরুল ২৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। তার সঙ্গে কোনো ভ্যা’লিড পাসপোর্ট বা ভিসার কোনো সঠিক ডকুমে’ন্টস পাওয়া যায়নি।

 

তিনি কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কাজ করতেন। জহিরের ভাতিজি রোমানা আক্তার জানিয়েছেন যদি কোন হৃদয়বান ব্য’ক্তি ম’রদেহ দেশে পাঠানোর খরচ বহন করেন তাহলে তারা বিমানবন্দর থেকে তার ম’রদে’হ গ্রহন করবেন। এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে এই ম’রদেহ পাঠানোর সুযোগ নেই তবে তার পরিবার যদি আবেদন করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ইউএনও বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তাহলে সরকার রাজি হলে তখন সরকারি খ’রচে লা’শ দেশে পাঠানো যেতে পারে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: