মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

পাশের কক্ষে সন্তানের সঙ্গে লাশ, মৃত্যুর আগে মেইলে যা লিখে গেছেন কাইয়ুম

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

নেত্রকোণার একটি বাসা থেকে বাবা ও ছেলের লা’শ উ’দ্ধারের পর মৃ’ত্যুর বিষয় নিয়ে একটি মেইলে পাওয়া গেছে। রবিবার সকালে ওই মেইলটি পুলিশের হাতে এসেছে। মৃ’ত্যুর আগে আবদুল কাইয়ুম সরদার (৩২) তার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ই-মেইলে চিঠিটি লিখে যান। গত বুধবার রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে লেখা মেইলটিতে তিনি নিজেকে অস’হায় উল্লেখ করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার কথা লিখেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শহরের নাগড়া এলাকার একটি ভবনের চারতলা বাসা থেকে পুলিশ আবদুল কাইয়ুম সরদার ও তার দুই বছরের ছেলে আহনাব শাকিলের লা’শ উ’দ্ধার করে।

 

আবদুল কাইয়ুম সরদারের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার গোপালের খামার গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আক্কাস সরদারের ছেলে। তিনি নেত্রকোণায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। এদিকে মৃ’ত্যুর ঘটনায় আবদুল কাইয়ুমের ছোটভাই মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) বাদী হয়ে গত শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণা মডেল থানায় হ’ত্যা মাম’লা করেন। এতে আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী সালমা খাতুনকে (২১) গ্রে’প্তার দেখিয়ে ওই দিনই সন্ধ্যায় আ’দালতের মাধ্যমে কা’রাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গৃহবধূ সালমা খাতুনকে (২১) দুই দিনের রিমা’ন্ডে নিয়েছে পুলিশ।

 

এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কাইয়ুম সরদার ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আসাদ আলীর মেয়ে ছালমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে কাইয়ুম সরদার স্ত্রীকে নিয়ে তার কর্মস্থল নেত্রকোণায় বসবাস করছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তাদের ছেলের জন্ম হয়। বৃহস্পতিবার সকালে কাইয়ুম ও তার দুই বছরের শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে পুলিশ লা’শ দুটি উ’দ্ধার করে।

 

পরে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল ম’র্গে ময়’নাতদ’ন্তের পর চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই বছরের ওই শিশুটিকে শ্বা’সরো’ধ করে হ’ত্যা করা হয়েছে। তবে শিশুটির বাবার মৃ’ত্যুর বিষয়টি স্প’ষ্ট না হওয়ায় দুজনেরই ভিসারা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে উভয়ের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী সালমা খাতুন ঘটনার পর জানিয়েছিলেন, প্রতিদিনের মতো গত বুধবার রাতে খাবার খেয়ে ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় জেগে উঠে পাশের কক্ষে একটি ফ্যানের সাথে স্বামী ও সন্তানের ঝুল’ন্ত লা’শ দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।

 

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, মৃ’ত্যুর আগে কাইয়ুম তার অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আবদুর রশিদের কাছে রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে একটি মেইল লেখেন। তাতে তিনি আর্থিক ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন। চিঠির এক স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন শহরের একটি সোনার দোকানে গহনার জন্য ৩০ হাজার টাকা বায়না দেয়া ছিল। সেই টাকা আনেন একটি দোকানে শিশুর খাবার নেয়ায় বাকি পড়া ছয় হাজার ৬০০ টাকা পরিশো’ধ করার জন্য। ওসি জানান, তারা বিভিন্ন বিষয় তদ’ন্ত করছেন।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: