মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

আমার ছেলে-স্ত্রীর শপথ, আমি কিছু করি নাই: আদালতে ওসি প্রদীপ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হ’ত্যা মা’মলায় বহি’স্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে জ’ড়িয়ে দেয়া অভিযো’গপত্রকে মনগড়া, বা’নোয়া’ট ও উদ্দে’শ্যপ্র’ণোদিত বলে দা’বি করে প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্তের জে’রার জবাবে মাম’লার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সাবেক সহকারি পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক তদন্ত করে এবং সাক্ষীদের সরাসরি বক্তব্যে মেজর সিনহা হত্যাকান্ডে প্রদীপের সরাসরি সম্পৃ’ক্ততা পাওয়া গেছে।

 

প্রদীপ সম্পূর্ণ নিরাপ’রাধ, নির্দো’ষ হওয়া সত্বেও স্বার্থান্বেষি মহলের পারস্পারিক যোগসাজসে অভিযোগপত্রে আসা’মী প্রদীপকে জ’ড়ানোর দা’বি সত্য নয়। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁ’ড়িয়ে থাকা ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কা’ন্না শুরু করেন। প্রদীপ বিচারকের উদ্দেশ্যে কান্নারত অবস্থায় বলেন, ‘স্যার, আমার ছেলের শপথ, আমার স্ত্রীর শপথ, আমি কিছুই করি নাই।’ এসময় আদালতের বিচারক ওসি প্রদীপকে বলেন, ‘আপনাকে আরও প্রশ্ন করব আপনি শান্ত হোন।’

 

আ’দালত সুত্র জানায়, আজ সোমবার (২৯ নভেম্বর) সকাল দশটার দিকে ৮ম ধাপে মাম’লার তদ’ন্ত কর্মকর্তার অসমাপ্ত জেরা শুরু হয়। আসা’মী লিয়াকতের পক্ষে নিযুক্ত চট্টগ্রাম বারের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন দাশের অনুপস্থিতিতে অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম অসমাপ্ত জেরার জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মেজর সিনহা হ’ত্যাকা’ন্ডের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে পুরোদমে ত’দন্ত করেছি এবং তদন্তের মাঝখানে কোন বিরতি পড়েনি। মাম’লার সাক্ষীরা তদন্তকালে অনেক বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তদন্তের স্বার্থে আমার বিবেচনায় সংক্ষেপ করে লিপি’বদ্ধ করেছি এবং আমার তদন্তের ধরণ এরকম।’

 

পরে অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্তের দীর্ঘ জেরার জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, সাক্ষী ছেনুয়ারা, হামজালাল, আলী আকবর, ছালেহ আহমদ ও বেবী বেগমেকে ওসি প্রদীপ বিভিন্ন মামলায় আসামী করেছেন। ওই সাক্ষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন এবং তাদের আত্মীয়স্বজন ক্র’স’ফা’য়ারের সম্মু’খিত হয়েছেন- এমন দা’লিলিক প্র’মাণ আছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রথমে টেকনাফ থানার তৎকালিন এসআই নন্দদুলাল র’ক্ষিত ভিক’টি’ম সিনহার ক্যামেরা এবং মোবাইল জ’ব্দ করেন এবং পরবর্তীতে এসআই সাব্বির ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়ার মাধ্যমে জ’ব্দকৃত আলামত আমার হাতে আসে।

 

ঘটনার দুইসপ্তাহ পর আমি হ’ত্যাকা’ন্ডের তদ’ন্তের জন্য দা’য়িত্বপ্রাপ্ত হই এবং এ কারণে আমি ভিক’টি’মের ক্যা’মেরা ও মোবাইল ফ’রেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তাবোধ করিনি। সোমবার সকাল থেকে দুপুরের এক ঘন্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসা’মী লিয়াকত ও প্রদীপের আইনজীবীগণ।

 

পরে জেরা অ’সমাপ্ত রেখে আদালতের ওই বিষয়ে কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন মামলার বিচারক কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় ওসি প্রদীপসহ মামলার ১৫ আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে আসা হয়।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: