বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
দুবাই বিমানবন্দরে কী ঘটে তা জানার অপেক্ষায় ঢাকা আচার বলে বিমানবন্দরে ব্যাগে ঢুকিয়ে দিলো প্যাকেট, সৌদি গিয়ে জেলে প্রবাসী প্রেম নিয়ে গুঞ্জন, নায়িকা বললেন ‘সৃজিত আমার বাবার মতো’ রাস্তায় ঘুরে চুড়ি-ফিতা বিক্রি করছেন নায়িকা মৌসুমী হাতিরঝিলে নতুন সংসার শুরু করলেন অপু বিশ্বাস, চাইলেন দোয়া মালয়েশিয়া প্রবাসীদের পোস্ট অফিস থেকে যেভাবে পাসপোর্ট নিতে হবে মালয়েশিয়ায় রিক্যালিব্রেশনে আবেদনকারীরা কোম্পানির অফিসেই করতে পারবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মায়ের সামনে আগুনে পুড়ে মরলো শেকলবন্দি কলেজছাত্র! বিমানবন্দরে ১ সপ্তাহের মাঝে নমুনা পরীক্ষা শুরু, মূল্যও কমবে কুয়েত মোবারক আল-কাবির থেকে ৮০ জন গ্রেফতার!

বিদেশ থেকে এসে বিমানবন্দরে নামার পরই সাইফুলকে ধরে ফেলে পুলিশ

প্রকাশিতঃ সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:১১ অপরাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ’ন্ডি পেরোতে পারেননি। অথচ সাইফুল ইসলাম নিজেকে পরিচয় দেন একজন প্রকৌশলী হিসেবে। বিদেশি কোম্পানিতে বড় পদে চাকরির কথা বললেও তিনি কাতারে শ্রমিকের কাজ করেন। মি’থ্যা পরিচয়ে গত চার বছরে চিকিৎসক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ২৫ নারীর স’ঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে কৌশলে ওই নারীদের কাছ থেকে খোলামেলা ছবি নেন সাইফুল। পরে বিভিন্ন বিদেশি প’র্নোসাই’টে ওই ছবি প্রকাশ করেন।

 

২৮ জুন কাতার থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরপরই পুলিশের অ’পরা’ধ তদ’ন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাই’বার ক্রা’ইম ইনভে’স্টিগে’শন টিমের সদস্যরা তাকে গ্রে’ফতার করেন। দেশে থাকার সময়ও সাইফুলের ব্ল্যা’কমে’লের শি’কার হয়েছেন কয়েকজন তরুণী। ফাঁ’দে ফেলে তাদের সঙ্গে শারী’রিক সম্প’র্কও করেছেন। তবে প্র’তার’ণার শি’কার হয়েও মানসম্মানের ভ’য়ে মুখ খুলতেন না কেউ। কিন্তু গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর মিরপুর থানায় এক নারী চিকিৎসকের অভি’যোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রে’ফতার করা হয়। এরপর ১৮ আগস্ট কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় আরেকটি মাম’লা করেন এক তরুণী।

 

সিআইডির তদ’ন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, সাইফুলের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জোতপাড়ায়। ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতেন। তবে পড়ালেখা শেষ না করেই ২০১৯ সালে শ্রমিক ভিসায় কাতার চলে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তার অপক’র্মের কথা স্বীকার করেছেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দিও দিয়েছেন। সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সাইফুল বিয়ের প্রলোভনে ২৫ জন তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে প্রতারণা করেছেন। তার মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প’র্নোসাই’টেও আপলোড করেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্প’র্ক গড়ে তুলেছিলেন সাইফুল।

 

একপর্যায়ে তারা প্র’তারি’ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারলেও মানসম্মানের ভ’য়ে আইনের আশ্রয় নেননি। সাইফুলকে গ্রে’ফতা’রের পর বেশ কয়েকজন ভু’ক্তভো’গী সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করেন। মিরপুর থানায় নারী চিকিৎসকের করা মাম’লার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুনে সাইফুল অজ্ঞা’ত ফেসবুক আইডি থেকে তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি বার্তা পাঠান। মেসেজে সাইফুল জানান, তিনি ওই নারী চিকিৎসককে চেনেন, জানেন ও দেখেছেন। তার ছোট বোনও চিকিৎসক। তরুণীকে তিনি জানান, তিনি সুইডেনে ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র হিসেবে এমফিল করছেন। এভাবে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন সাইফুল। কয়েকবার এভাবে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা বলার পর সাইফুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। নারী চিকিৎসক তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

 

সাইফুল তাকে জানান, এক মাস পর দেশে ফিরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। জুনের তৃতীয় সপ্তাহের পর তিনি ইমো অ্যাপস থেকে ওই নারী চিকিৎসককে জানান, ১২ জুলাই দেশে ফিরবেন সুইডেন থেকে। ওই দিন দুপুরে বনানীতে সাইফুলের বাসায় পরিবারকে নিয়ে বিয়ের ব্যাপারে আ’লোচনা করার জন্য ওই নারী চিকিৎসককে যেতে বলেন তিনি। ২০১৯ সালের ১১ জুলাই সকালে সাইফুল আবারও ইমোতে কল করে ওই নারী চিকিৎসকের দুর্ব’লতার সুযোগে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলেন। পরদিনই বিয়ের কথাবা’র্তা হবে, এমন সরল বিশ্বাসে মেয়েটি ছবি ও ভিডিও পাঠান। এরপর ১২ জুলাই সাইফুলের দেওয়া বনানীর ঠিকানায় গিয়ে তার বাসা পাননি ওই নারীর স্বজনরা। এ সময় সাইফুলের যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সাইফুল নিজেই মেসেজ পাঠান। মেয়েটিকে জানিয়ে দেন, তিনি আর তার সঙ্গে যোগাযোগে আগ্রহী নন। এরপর সাইফুলের ভ’য়ং’কর চেহা’রা বেরিয়ে আসে।

 

তিনি হু’মকি দেন, তার কথামতো না চললে তিনি ওই নারী চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ছবি ও ভি’ডিও প’র্নো’সাই’টে ভা’ইরা’ল করে দেবেন। মানসম্মান ও ক্ষ’তির চিন্তা করে তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারী চিকিৎসক যোগাযোগ বন্ধ না করলেও সাইফুল সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, একাধিক মেয়ের সঙ্গে একইভাবে সাইফুল প্র’তার’ণা করেছেন। ওই বছরের নভেম্বরে তিনি সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। গত বছর জানুয়ারিতে একজন পরিচিত ব্যক্তি তাকে জানান, বিভিন্ন প’র্নো’সাই’টে তার ছবি আর ভি’ডিও পাওয়া গেছে। কুমিল্লার ভু’ক্তভো’গী আরেক তরুণী জানান, তাকেও বিয়ের প্র’লো’ভন দেওয়া হয়েছিল। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন তুলে সাইফুল তার ব্য’ক্তিগ’ত ছবি ও ভি’ডিও পাঠাতে বলেন।

 

এভাবে তাকে একাধিকবার ছবি পাঠাতে বা’ধ্য করেন সাইফুল। সিআইডির সাইবার ক্রা’ইম ইন’ভেস্টি’গেশন অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বাং’লা’দেশ প্রতি’দিন’কে জানান, সাইফুলের ফাঁ’দে পড়ে প্র’তারি’ত হয়েছেন এমন নারীর সংখ্যা ২০-২৫। তবে এখন পর্যন্ত ১০-১২ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, কুমিল্লার মাম’লায় তাকে রিমা’ন্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।


More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error:
error: